Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরম্পরা মেনে নারায়ণপুর দেবকুণ্ডে বিয়ের ফুল,মালা ভাসালেন নবদম্পতিরা

শতাধিক বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং পরম্পরা মেনে বুদ্ধ পূর্ণিমায় পুরাতন মালদহ ব্লকের মঙ্গলবাড়ির নারায়ণপুরে বেহুলা নদী সংলগ্ন দেবকুণ্ডে বিয়ের ফুল, মালা ভাসালেন নবদম্পতিরা

পরম্পরা মেনে নারায়ণপুর দেবকুণ্ডে বিয়ের ফুল,মালা ভাসালেন নবদম্পতিরা
  • ১৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: শতাধিক বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য এবং পরম্পরা মেনে বুদ্ধ পূর্ণিমায় পুরাতন মালদহ ব্লকের মঙ্গলবাড়ির নারায়ণপুরে বেহুলা নদী সংলগ্ন দেবকুণ্ডে বিয়ের ফুল, মালা ভাসালেন নবদম্পতিরা। শুধু তাই নয়, দাম্পত্য জীবনে সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে তাঁরা একসঙ্গে কুণ্ডের জলে স্নান করেন। নবদম্পতিদের পাশাপাশি অন্য পুণ্যার্থীদেরও ব্যাপক ভিড় উপচে পড়ে দেবকুণ্ডে। স্নান করে ঐতিহ্যবাহী গন্ধেশ্বরী মাতার মন্দিরে পুজো দেন ভক্তরা। এই স্নান ও পুজো ঘিরে এলাকায় মেলা জমে ওঠে। পুজো উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মনসামঙ্গল কাব্যে বর্ণিত রয়েছে বেহুলা নদীতে স্বয়ং সতী বেহুলা তাঁর স্বামীর প্রাণ ফিরে পেতে ভেলায় করে নদীপথে স্বর্গে যাত্রা করেছিলেন। সেই নদীর পাশে রয়েছে এই কুণ্ড। আগে কুণ্ড নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। বর্তমানে সেই সংযোগ নেই। তবুও প্রাচীন রীতি মেনে বুদ্ধ পূর্ণিমার তিথিতে আজও নবদম্পতিরা কুণ্ডে এসে ফুল ভাসিয়ে দেন। 

Advertisement

তবে ওই এলাকায় রাস্তা নেই। নদী পার হতেও অনেকের সমস্যা হয়। স্থানীয়রা সেখানে রাস্তা এবং পাকা সেতুর দাবি তুলেছেন। এদিন ওই পুজোর উৎসবে গিয়েছিলেন পুরাতন মালদহ পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বাসন্তী রায়। তিনি বলেন, পাশে রেলস্টেশন রয়েছে। অনেক মানুষ নারায়ণপুরে আসে। মেলায় ভিড় হয়। এখানে রাস্তা দরকার। এটা গ্রামীণ এলাকা। আমরা পঞ্চায়েত সমিতিকে বলেছি। আবারও বলব। রাস্তা হলে সকলের সুবিধা হবে। পুজোর পুরোহিত অম্বর কুমার খাঁ বলেন, আমাদের কাছে  বাংলা ১৩৫৬ সালের নথি রয়েছে। তবে পুজোর ঐতিহ্য শতাধিক বছরের বেশি বলে শুনেছি। নিজেদের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা, মানতের জন্য ফি বছর  নবদম্পতিরা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সহ বহু ভক্ত আসেন।   
এদিন গাজোল থেকে দেবকুণ্ডে এসেছিলেন নবদম্পতি রতন পাহাড়ি এবং প্রিয়াঙ্কা পাহাড়ি। তাঁদের গত সপ্তাহে বিয়ে হয়েছে। রবিবার বউভাত ছিল। তাঁরা বলেন, আমাদের মধ্যে বিয়ের ফুল এবং মালা কুণ্ডে ভাসানোর রীতি রয়েছে। আমরা দু’জনে মিলে রীতি পালন করে স্নান করলাম। খুব ভালো লাগছে। পুরাতন মালদহ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রুম্পা রাজবংশী বলেন, দেবকুণ্ডে যাওয়ার একটি রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা করা হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ