নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যত ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়, তার কার্যত এক তৃতীয়াংশ কম প্রার্থী ভরতি হয় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে। আর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসা ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা মাধ্যমিক উত্তীর্ণের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এই ধারার বদল চাইছেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নবনিযুক্ত সভাপতি অধ্যাপক অসিতকুমার মণ্ডল। মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের পর বহু পুরানো এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি এও জানিয়েছেন, সেমেস্টার পদ্ধতির যে সমস্যাগুলি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য শিক্ষকসহ বিভিন্ন সম্পর্কিত মহলের মতামত গ্রহণ করা হবে।
অসিতবাবু বলেন, ‘মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ড্রপ আউট একটি উদ্বেগজনক সমস্যা। প্রায় প্রতি বছর উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সার্বিক অনুপাতে কমছে। এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি, সিলেবাস সময়োপযোগী করা, নজরদারি বৃদ্ধি প্রভৃতি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব।’ তিনি এও জানান, জাতীয় শিক্ষানীতি এবং ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম কার্যকর করার মাধ্যমে ভেঙে পড়া সরকারি স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে। সরকারি শিক্ষকরা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের থেকে অনেক বেশি দক্ষ বলেই মত অসিতবাবুর। তাই চেষ্টা করলে অনেক উন্নতি সম্ভব। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গেলে এবং শিক্ষকদের অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে ব্যস্ত না রেখে শিক্ষাদানে নিয়োজিত রাখা গেলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে করেন তিনি।
উচ্চ মাধ্যমিকে সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হওয়ার পরে বিভিন্ন ভালো দিকের পাশাপাশি সমস্যার দিকও উঠে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই সিলেবাস শেষ না হওয়া, সময়ে বই না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার পাশাপাশি, এমসিকিউ পদ্ধতিতে সহজে নম্বর ওঠার ফলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কিছুটা গাছাড়া মনোভাবের দিকটিও তুলে ধরে শিক্ষক মহল। এ প্রসঙ্গে সভাপতি বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষানীতিতেও সেমেস্টার পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য এই পদ্ধতিতে তৈরি হওয়াটা সুবিধাজনক। উচ্চ মাধ্যমিকের পরে যে কোনো কোর্স সেমেস্টারভিত্তিক। তাই এই পদ্ধতির অনেক ভালো দিক রয়েছে। তবে এটা নিয়ে অভিযোগও কম নেই। সেগুলি চিহ্নিত করে আমরা পদ্ধতিটি ত্রুটিমুক্ত করার পথে হাঁটব।’



