Bartaman Logo
১৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

জন্মভূমির প্রতি নতুন প্রজন্মের কোনো টান নেই

নতুন প্রজন্মের জন্মভূমির প্রতি টান কমছে বলে মত বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কাজের কারণে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা কমছে। বিস্তারিত পড়ুন।

জন্মভূমির প্রতি নতুন প্রজন্মের কোনো টান নেই
  • ১৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পক্ষে:

Advertisement

অহনা আদক
এখন মানুষ কেবল নিজের স্বার্থের কথা ভাবে। নিজের দেশে উচ্চশিক্ষিত হয়ে নতুন প্রজন্ম বিদেশে যাত্রা করছে। সেখানে গিয়ে তাদের মনে পড়ে না, এই বিদেশিরাই একসময় মাতৃভূমির উপর অত্যাচার চালিয়েছে। বরং বিদেশে থাকাটাই এখন গর্বের ব্যাপার হয়ে উঠেছে।
ছাত্রী

পিয়ালী দাস
আজকের নতুন প্রজন্ম বড়ো হয়েছে ডিজিটাল যুগে। তাদের কাছে জন্মভূমি শুধুমাত্র একটা ঠিকানা। ভালোভাবে লক্ষ করলে বোঝা যায় যে জন্মভূমিও তাদের ঠিক ধরে রাখতে পারেনি। এই জন্মভূমি তাদেরকে হতাশা ও বেকারত্ব ছাড়া কিছু কি দিতে পেরেছে? এখন উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য তাদের জন্মভূমির শিকড় ছিঁড়ে দূরে যেতে হচ্ছে। ফলে জন্মভূমির প্রতি টান কিংবা ভালোবাসা থাকলেও সেটা প্রকাশের জায়গা নেই।
নার্স

বুল্টি দাস
জন্মভূমি আজ ফ্ল্যাট, ভাড়াবাড়ি শব্দগুলি দ্বারা প্রতিস্থাপিত এবং তা শুধু জন্ম শংসাপত্রেই সীমাবদ্ধ। শিক্ষা, চাকরি, জীবনযাপনের মানোন্নয়ন সবকিছুর জন্যেই আজকের প্রজন্ম নিজের ভিটেমাটি ছাড়তে রাজি। বর্তমান প্রজন্মের কাছে আবেগের গুরুত্ব কম। তাই হয়তো জন্মভূমির প্রতি যে টান, তা তাদের মনে দাগ কাটে না। কিছুক্ষেত্রে সামাজিক পরিস্থিতি তাদের অন্যত্র বাসা বাঁধতে বাধ্য করে। 
গৃহবধূ

 শ্যামাকান্ত দাস
জন্মভূমির প্রতি নতুন প্রজন্মের ভালো ছেলেমেয়েদের এতটুকু টান নেই বলেই স্কুল কলেজের প্রথম বেঞ্চের ছাত্র-ছাত্রীরা রাজনীতিতে আসে না। টান থাকলে আমাদের বিশ্বমানের ব্রেনকে টাকা দিয়ে কিনে নিতে পারত না আমেরিকা এবং ইউরোপ।
সমাজসেবী

বিপক্ষে

দেবস্মিতা পাল 
কমবেশি সকল ব্যক্তির নিজের শিকড়ের প্রতি একটা টান থাকে। নতুন প্রজন্মও এর ব্যতিক্রম নয়। মানুষ কাজের সূত্রে অন্য রাজ্য বা অন্য দেশে যায়। কিন্তু কাজের ফাঁকে শিকড়ের টানে সে নিজের রাজ্য বা দেশে ফিরে আসে। নতুন প্রজন্মের শিকড়ের প্রতি টান কমেনি, বরং বদলেছে।  
কলেজ পড়ুয়া

সৃজন তরফদার
যদি আমাদের অর্থাৎ নবীন প্রজন্মের জন্মভূমির প্রতি টান না থাকত, তাহলে এত ছেলেমেয়ে এনসিসিতে যোগ দিত না। বর্তমানে আমাদের প্রজন্মের অনেকেই দেশসেবায় নিয়োজিত। এটা শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই আটকে নেই। আমাদের মাতৃভূমির প্রতি টান রয়েছে। তাই কিছু অংশের উদাসীনতা দেখে কি আমাদের সমগ্র প্রজন্মকে বিচার করা যায়? 
শিক্ষার্থী

 বিশ্বজিৎ কর
একাংশের ক্ষেত্রে হয়তো একথা প্রযোজ্য। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন মানসিকতা এখনও পর্যন্ত অনুভূত হয় না। ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক এবং অন্যান্য গঠনমূলক ক্ষেত্রে জাতীয়তাবোধের সূক্ষ্ম স্পন্দন নতুন প্রজন্মের মানসিকতায় জাগরিত হয়। দেশের সাফল্যের কামনায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়। 
অবসরপ্রাপ্ত কর্মী

সাহিনা খাতুন
বর্তমান ডিজিটাল যুগে নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমের প্রকাশভঙ্গি বদলেছে। কিন্তু জন্মভূমির প্রতি টান অটুট রয়েছে। উন্নত কেরিয়ারের জন্য বিদেশমুখী হলেও দেশের প্রতি তাদের টান ফুরিয়ে যায়নি বরং আজ তারা প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর উপায়ে দেশপ্রেম প্রকাশ করছে। যেকোনো সামাজিক সংকট বা দুর্যোগে তরুণদের ডিজিটালি অ্যাকটিভ ক্যাম্পেইন ও ত্রাণ তৎপরতা প্রশংসনীয়। 
প্রাইভেট শিক্ষিকা 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ