Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

নবীন প্রজন্ম

নবীন প্রজন্ম চাকরি ও দক্ষতার জন্য নতুন শিক্ষার দাবি করছে। চাকরি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

নবীন প্রজন্ম
  • ৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

শুধু জ্ঞান নয়, চাকরি দেবে এমন পড়াশোনা চায়

Advertisement

 

পক্ষে

 সর্বানী গুপ্ত
আগে মানুষ জ্ঞান অর্জনের জন্য, নতুন কিছু জানার জন্য পড়াশোনা করত। কিন্তু আজকের প্রজন্ম দেখছে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেও কোনো কর্মসংস্থান নেই। পিএইচডি করেও কোনো রুটিরুজির ব্যবস্থা নেই। সেখানে মাধ্যমিক পাশ করার পর বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স করলে ভদ্রস্থ মাইনের চাকরি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পড়ে শুধু জ্ঞান অর্জন করার দিন শেষ।
আইনজীবী

 শুভদীপ নন্দী
শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তাকে কর্মসংস্থানের পথও খুলে দিতে হবে। নবীন প্রজন্ম চায় এমন পড়াশোনা যা তাদের বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা, ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে দক্ষ মানুষের চাহিদা বাড়ছে। তাই পরীক্ষায় ভালো নম্বরই নয়, বাস্তব জীবনে কাজ করার উপযোগী শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
পড়ুয়া 

 পূজা সরকার
জ্ঞানই সর্বশ্রেষ্ঠ ধন। কিন্তু বর্তমানের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই ধারণার ব্যবহারিক সত্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ বর্তমান প্রজন্মের কাছে শিক্ষার লক্ষ্যের ধারণাটি প্রথাগত ধারণার থেকে ভিন্ন। তারা বৃত্তিমুখী ও কর্মকেন্দ্রিক শিক্ষায় বিশ্বাসী। তাদের মতে শিক্ষার মূল লক্ষ্যই হল ‘লার্ন টু আর্ন’। জ্ঞান নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠ, কিন্তু যে শিক্ষা উপার্জনের রাস্তা খুলে দেয় তার গ্রহণযোগ্যতাই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। 
ছাত্রী

 অভিজ্ঞান সাহা
আজকের নবীন প্রজন্ম শুধু ডিগ্রি নয়, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চায়— এটি একেবারেই বাস্তবসম্মত দাবি। কারণ শিক্ষার উদ্দেশ্য জীবনে স্বনির্ভর হওয়া। যে শিক্ষা চাকরির দক্ষতা দেয় না, তা অনেক সময় বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে। তবে শুধু চাকরিমুখী শিক্ষা নয়, জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয় জরুরি। আধুনিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু শিক্ষিত মানুষ নয়, দক্ষ ও চিন্তাশীল মানুষ তৈরি করা।
স্কুল ছাত্র

 

বিপক্ষে

 সমাদৃত দাস
বর্তমান সময়ে নবীন প্রজন্ম চাকরির দিকে ঝুঁকলেও, জ্ঞান ব্যতীত পড়াশোনা কোনোদিনই সম্ভব নয়। জ্ঞানার্জনের জন্যই পড়াশোনা করা হয়। একজন সত্যিকারের জ্ঞানী ব্যক্তিই একটা নতুন সভ্যতা গড়ে তুলতে পারেন। জ্ঞানই মানুষকে আলোর পথ দেখায়। নবজীবন গড়ার দিশা দেখায়। চাকরি করতে হলে অবশ্যই একটি ডিগ্রি প্রয়োজন, কিন্তু চাকরির জন্যই কেউ যদি পড়াশোনা করে, তাহলে তাঁর প্রকৃত জ্ঞানের বিকাশ হয়নি। 
ছাত্র

 

 আশালতা মহাপাত্র
জীবনে সৎভাবে উপার্জন করতে হলে মূল বিষয়ে পড়াশোনা করতেই হবে, একথা বিশ্বাস করে নবীন প্রজন্ম। বরং সম্ভব হলে সেই পড়াশোনার পাশাপাশি তারা কিছু বৃত্তিমূলক কোর্স করে ভবিষ‍্যৎ কর্মজীবনের কথা ভেবে। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ‍্যতা লাভের পর চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন‍্য নামী কোচিং সেন্টারেও ভরতি হয়। কিন্তু পড়াশোনার মাধ‍্যমে জ্ঞান অর্জন করা থেকে বিচ‍্যুত হয় না প্রকৃত মনোযোগী ছাত্ররা।
গৃহবধূ

 দেবকুমার দত্ত
জীবনের সঙ্গে জীবিকার প্রশ্নও জড়িয়ে থাকে। জীবিকার জন্য জ্ঞান প্রয়োজন। তবে মানুষ তো শুধুমাত্র জীবিকা অর্জনের জন্য বাঁচে না। মন এর খিদে নিবারণ করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চলে। সেই কারণেও জ্ঞানের প্রয়োজন আছে। অতীতে সমাজে জ্ঞানী মানুষের, দারিদ্র্য সত্ত্বেও খুব কদর হত। তখন জীবিকানির্বাহ করা অতটা কঠিন ছিল না। পরবর্তীকালে সমাজ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে। সেইসঙ্গে বদলেছে জীবিকা অর্জনের উপায়। বর্তমান প্রজন্মের বৃহৎ অংশ হয়তো জীবিকার প্রয়োজন মতো জ্ঞান অর্জন করতে আগ্রহী কিন্তু সেটাই সার্বিক চিত্র নয়। 
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী 

 শ্রীপর্ণা সরকার
গবেষণা মানুষকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে যুগ থেকে যুগান্তরে। দেশের চৌহদ্দি পেরিয়ে, নবীন প্রজন্ম পাড়ি দিচ্ছে বাইরের জগতে। গতে বাঁধা ডিগ্রি অর্জনই শুধু নয়, গবেষণার ডালপালা বিস্তারের উদ্দেশ্যেই আজকের প্রজন্মের পড়াশোনা। মাসমাইনের চাকরির চেয়ে গবেষণার প্রতিই আজকের ছেলেমেয়েরা বেশি আগ্রহী। ক্যানসার, এইডস-এর মতো মারণ রোগ নির্মূল করার আকাঙ্ক্ষায় তারা উদগ্রীব। ফলে গবেষণা করে মানবকল্যাণের জন্য নিজেদের নিবেদন করার মধ্যেই নুতন প্রজন্ম সার্থকতা পেয়েছে।
শিক্ষিকা

সম্পর্কিত সংবাদ