মার্কিন রাজনীতির নয়া মুখ ‘ভবিষ্যতের ওবামা’
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: বয়স মাত্র ৩৯। সুদর্শন, সুবক্তা। শার্টের হাতা গুটিয়ে তাঁর কথা বলার ভঙ্গি মনে করায় প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে। মিড টার্ম নির্বাচনে জয়ের পর ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন ওসোফকে ‘লম্বা রেসের ঘোড়া’ বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই। একধাপ এগিয়ে কেউ কেউ বলছেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার দৌড়েও রয়েছেন তিনি। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের অনেকেই ইতিমধ্যেই ওসোফের মধ্যে ‘ভবিষ্যতের ওবামা’কে দেখতে শুরু করেছেন। যদিও একাধিকবার ওসোফ নিজেই জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছে নেই তাঁর। 

Advertisement

২০২১ সালে প্রথমবার সেনেটর হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ওসোফ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনেকেই সেসময় তাঁকে ‘অ্যাক্সিডেন্টাল সেনেটর’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই ওসোফই ২০২৬ সালে ফের জয় ছিনিয়ে আনলেন জর্জিয়া থেকে, যেখানে দু’বছর আগে বিপুল ভোট পেয়েছিলেন জিতেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। 
১৯৮৭ সালের আটলান্টায় জন্ম ওসোফের। মা অস্ট্রেলীয় অভিবাসী, বাবা রুশ-লিথুনিয়ান ইহুদি পরিবারের সদস্য। হলোকাস্টের নারকীয়তার শিকার হয়েছে ওসোফের পরিবারের সদস্যরাও। যদিও ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘোরতর বিরোধী ওসোফ। কটাক্ষ করতে ছাড়েন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও। নির্বাচনে জিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘ফেইলড লেম ডাক’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। 
অন্যদিকে, আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে চলেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস। সব ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন আইনসভার স্পিকার পদে শপথ নিতে পারেন তিনি। ফলে তিনি হয়ে উঠবেন প্রেসিডেন্টের পর আমেরিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও মার্কিন সংবিধান অনুসারে কংগ্রেসের একমাত্র নেতা। ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনি ফলাফল দেখার অনুষ্ঠানে ‘স্পিকার’ বলে স্বাগত জানানো হয় তাঁকে। জবাবে জেফ্রিস বলেন, ‘এটা কোনো দলের জয় নয়, এটা দেশপ্রেমের মুহূর্ত।’ ট্রাম্পের আমলে মার্কিন মুলুকে কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার একাধিকবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসাবে জেফ্রিসের এই শপথ ঐতিহাসিক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের বড়ো অংশ।