নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘গোটা দেশকে গ্যারান্টি দিচ্ছি, নরেন্দ্র মোদি এভাবে আমার সামনে এসে বিতর্কে বসতে পারবেন না।’ বুধবারও চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন রাহুল গান্ধী। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তাঁর আশঙ্কা সত্যি হওয়ার পথে। লোকসভার বিরোধী দলনেতার প্রস্তাব এখনও গ্রহণ করলেন না প্রধানমন্ত্রী। বরং মোদির হয়ে বৃহস্পতিবার ময়দানে নেমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সাফ জানিয়ে দিলেন, রাহুলের এই চ্যালেঞ্জ মোদি গ্রহণ করবেন না। কারণ, ভারতীয় গণতন্ত্রের এটা রীতি নয়। বিতর্কের স্থান সংসদ। বরং রাহুল গান্ধী যদি সত্যিই জবাব কিংবা আলোচনা অথবা বিতর্ক চান, তাহলে সংসদে আসুন। যদিও সংসদে যে এমন বিতর্ক হওয়া সম্ভব নয়, সেটা বুধবারই স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাহুল। সরাসরি জানিয়েছেন, পার্লামেন্টে তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। কথা বলতে দেওয়া হয় না। এদিনও কংগ্রেস পালটা আক্রমণ শানিয়েছে, সংসদের অধিবেশন যখন চলে, তখন মোদি এবং অমিত শাহ তো আসেনই না! বর্ষাকালীন অধিবেশনে সেটা প্রমাণিত। তা সত্ত্বেও সরকারপক্ষ বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডেকে বিতর্কের অবস্থানে অনড় থাকায়, জয়ের গন্ধ পাচ্ছেন রাহুল গান্ধী তথা গোটা বিরোধী শিবির।
ভোট চুরি ইস্যুতে বিরোধীদের প্রথম টার্গেটই জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর ইস্তফার দাবিতে হয়েছে নির্বাচন কমিশন দপ্তরে অভিযান। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পদযাত্রা। রামলীলা ময়দানে সমাবেশ। আর সেই সমাবেশের ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই রাহুল গান্ধী অত্যন্ত সুকৌশলে টার্গেট করেছেন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে। গত সোমবার থেকে নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ করে বলে চলেছেন, ‘সরাসরি বিতর্কে আসুন। আপনি আমাকে দেশবিরোধী আখ্যা দিচ্ছেন। বিদেশি শক্তি সাহায্য করছে আমাকে, সেটা বারংবার বলছেন। কিন্তু আপনিই তো বিদেশি শক্তির সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।’ গত চারদিন ধরে রাহুল ধাপে ধাপে সুর চড়িয়েছেন। এমনকি বুধবার বলেছেন, ‘ভয় পাবেন না মোদিজি! যে কোনো মঞ্চে, যে কোনো দিন, যে কোনো সময় হতে পারে এই বিতর্কসভা। বিচারক করা হোক মোদির যাঁকে ইচ্ছা তাঁকেই। এমনকি মোহন ভাগবতকেও করা যেতে পারে। ট্রাম্প কেন কন্ট্রোল করেন মোদিজিকে? ফাঁস করব। গ্যারান্টি দিচ্ছি, ৫ মিনিটের মধ্যে প্রমাণ করে দেব, নরেন্দ্র মোদি আসলে দেশবিরোধী।’
চারদিন কেটে গেলেও রাহুলের এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সম্পূর্ণ নীরব। এদিন মোদির হয়ে অমিত শাহ জবাব দিয়েছেন, ‘৮০ বছরের ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সরকার এবং বিরোধী পক্ষ বিতর্ক করবে কেন? এটা গণতন্ত্রের পক্ষে অপমান। আপনি (রাহুল) যা যা প্রশ্ন করছেন, সব কিছুর জবাব দেওয়া হবে। সরাসরি বিতর্ক হবে। কিন্তু বিতর্কের মঞ্চ সংসদ ভবন, সেটাই সংবিধান বলেছে।’ বিজেপির মুখপাত্র কিংবা মন্ত্রীরাও এদিন সংসদের বাইরে নয়, সংসদের অন্দরে বিতর্ক আহ্বান করেছেন। যার পরোক্ষ বার্তা রাহুলের চ্যালেঞ্জে মোদির সাড়া মিলবে না।



