চাপে পিছু হটল কমিশন, কমিশনারদের আপত্তি, দেশজুড়ে আন্দোলন, ডানা ছাঁটা হল সীমার
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের ওয়েব পোর্টাল ‘ইসিআইনেট’ কন্ট্রোল করতেন তিনি। ‘ইআরও’দের ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন বা বাতিলে ক্ষমতা খর্বের নেপথ্যেও নাকি তাঁরই হাতযশ। আইন এবং পদের অপব্যবহার করে তিনি একতরফাভাবে ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যের এসআইআরে। এমনকি, গোয়ায় ইআরও-রা ৯৭ জনকে ‘যোগ্য’ ছাড়পত্র দেওয়ার পর বারবার তাঁকে চিঠি লিখলেও চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলা যায়নি। এহেন একের পর এক অভিযোগ উঠেছিল কমিশনের আইটি বিভাগের ডিজি সীমা খান্নার বিরুদ্ধে। তাঁর এই ‘বেআইনি’ একচ্ছত্র ক্ষমতা নিয়ে তিন মাস আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন দেশের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি। কাজের দায়িত্ববণ্টন নিয়ে তাঁদের আপত্তি গত ২৯ জুলাই কমিশনের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল স্বয়ং কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিবের কাছে। বিষয়টি প্রথমে স্বীকারই করেনি কমিশন। জবাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে গর্জে উঠেছে গোটা দেশ। ককরোচ জনতা পার্টি, সম্মিলিত বিরোধী জোটের লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়প্রমাণ সেই চাপের মুখে অবশেষে বৃহস্পতিবার পিছু হটল কমিশন। ডানা ছাঁটা হল সীমা খান্নার। তিনি আর সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘রিপোর্ট’ করবেন না। সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার পবন কুমার শর্মার কাছে ফাইল জমা দেবেন। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে পবন কুমার শর্মাকে।

Advertisement

শুধু সীমা খান্না নয়, নতুন ভোটারের নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৬’ নিয়েও ঢোঁক গিলতে হয়েছে কমিশনকে। ‘ফর্ম ৬’-এর সঙ্গে আগের এসআইআরে অভিভাবকের নাম থাকার ব্যাপারে ‘স্ব-ঘোষণাপত্র’ দিতে হচ্ছিল এসআইআরে। বিষয়টিকে বেআইনি বলে দাগিয়ে ছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। সেই বিষয়টিকেও কমিশন প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত বলে দাবি করে। কিন্তু পরে স্বয়ং দেশের প্রধান বিচারপতি জানান, এমন কোনো অনুমোদন দেয়নি শীর্ষ আদালত। ভর্ৎসনার মুখে পড়ে জ্ঞানেশ কুমাররা জানান, ‘ফর্ম ৬’ ও ‘স্ব-ঘোষণাপত্র’ আলাদা নথি। এরপর এসআইআরে বাতিল ভোটারদের ‘ফর্ম ৬’ জমা দেওয়া নিয়ে সুপ্রিম-প্রশ্নের মুখে পড়ে কমিশন। তাতে অবশ্য বিষয়টি বন্ধ হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সহ যে সব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন, অথবা যেখানে এসএসআর (স্পেশাল সামারি রিভিশন) চলছে বা শুরু হবে, সেখানে নতুন ভোটার হতে ‘ফর্ম ৬’-র সঙ্গে ‘আলাদা করে’ কোনো ‘ডিক্লারেশন’ দিতে হবে না। অনলাইন অথবা অফলাইন, উভয়ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টকেও জানিয়েছে কমিশন। তবে যেখানে এসআইআর চলছে, সেখানে ‘ফর্ম ৬’-এর সঙ্গে আলাদা করে ওই ‘স্ব-ঘোষণাপত্র’ দিতে হবে। আবার সাধারণ ‘ফর্ম ৬’-র মধ্যেও দ্বিতীয় পাতায় একটি ডিক্লারেশন থাকছে। তবে সেখানে ম্যাপিংয়ের বিষয়টি নেই।
এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি কাজ অত্যন্ত শ্লথগতিতে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রদেশ কংগ্রেসের এসআইআর সেলের চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বসুর আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়েছে কমিশন। তাতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে গত ৭ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ লক্ষ ১৩ হাজার ‘ফর্ম ৬’ জমা পড়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ ৭ হাজারকে নতুন ভোটার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৭ লক্ষ ২৬ হাজার আবেদন বাতিল। ১৯ লক্ষ ৮ হাজারের নিষ্পত্তি এখনও বাকি।