অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: চলমান নগরজীবন থেকে উৎসব। রাস্তার দৃশ্য বাড়ির ভিতর থেকে দেখতেই রাজপরিবারের পর্দানশীন নারীদের জন্য তৈরি হয়েছিল হাওয়া মহল। রাজস্থানের জয়পুরে লাল-গোলাপি বেলেপাথরের এই স্থাপত্য দেখতে ভিড় জমান হাজার হাজার পর্যটক। বাংলায় পালটানো হাওয়ায় এই হাওয়া মহলকেই এবার থিম করছে শ্রীভূমি। ক্লাবের নামের সঙ্গে যাঁর নাম সমার্থক হয়ে উঠেছিল, সেই প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু এখন জেলে! কমিটি থেকে বাদও পড়েছেন তিনি। এতকাল যাঁরা ছিলেন বঞ্চিত, সেই পাড়ার লোকজনই এবার পুজোর সক্রিয় ভূমিকায়। শ্রীভূমির যে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের কার্যত বের করে দেওয়া হয়েছিল, এখন তাঁদের কাঁধে ভর করেই মা আসছেন পাড়ায়। নতুন করে সাজছে সুজিতহীন শ্রীভূমি। জৌলুস ধরে রেখে ভিড় টানতে মরিয়া নয়া কমিটিও।
শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। শ্রীভূমি মানেই ছিল প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর পুজো। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে মহালয়ার দিনই পুজোর উদ্বোধন হয়ে যেত! তবে, উদ্বোধন না বলে নাম দেওয়া হত, ‘উৎসব উৎসারিত সূচনা’। টলি-বলির নায়ক-নায়িকাদের হাট বসত। রাজ্যে পালাবদলের পর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রথম জেলে যান প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। শ্রীভূমির পুজো কী বন্ধ হয়ে যাবে? শুরু হয়েছিল এই গুঞ্জন। কিন্তু মায়ের আরাধনা কি বন্ধ হয়? নতুন কমিটিতে বাদ পড়লেন খোদ প্রাক্তন মন্ত্রীই। নতুন কমিটিতে এলেন এলাকার দুই পরিচিত মুখ। সভাপতি হয়েছেন কনক দেবনাথ। সাধারণ সম্পাদক বাবুয়া চট্টোপাধ্যায়। দু’জনের শ্রীভূমি ক্লাবের জন্মলগ্ন থেকে ছিলেন। নেতৃত্বে তাঁরাই। তবে, পাড়ার সকলকে নিয়েই জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। উদ্বোধনে আমন্ত্রিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পাড়ার বাসিন্দাদের কথায়, ক্লাবের অন্যতম কর্তা কনক দেবনাথকে ৩৫ বছর আগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিমানে পুজোয় বের হতেন না। সাড়ে তিন দশক পর তিনি মায়ের মুখ দেখবেন। ২০০৯ সালে বের করে দেওয়া হয় বাবুয়াকেও। ১৭ বছর পর তিনি মায়ের কাছে অঞ্জলি দেবেন। নিখুঁতভাবে থিম ফুটিয়ে তুলতে কারিগরদের রাজস্থান ঘুরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। চোখের সামনে দেখা স্থাপত্যকে গড়ে তুলছেন তাঁরা। ৭০ ফুট উঁচু মণ্ডপ। তাই প্রত্যেক কারিগদের জন্য জীবনবিমাও করিয়েছে নতুন কমিটি। যা অভিনব। সভাপতি কনক দেবনাথ এবং সাধারণ সম্পাদক বাবুয়া চট্টোপাধ্যায় বলেন, পাড়ার পুজো, অথচ আবাসিকদেরই এতকাল বঞ্চিত করা হত। সর্বজনীন পুজোকে প্রাক্তন মন্ত্রী নিজের ব্যক্তিগত পুজো বানিয়ে রেখেছিলেন। এবার সত্যিকারের মাতৃ আরাধনা করব পাড়ার সবাই মিলে। আমিত্ব নয়। শ্রীভূমি এবার আমাদের সবার।