Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহু ওয়ার্ডে ৫০-৬০ জন করে মৃত ভোটারের নাম তালিকায়, প্রশাসনের দ্বারস্থ শাসক শিবির

বহু ওয়ার্ডে ৫০-৬০ জন করে মৃত ভোটারের নাম তালিকায়, প্রশাসনের দ্বারস্থ শাসক শিবির
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুর শহরে অধিকাংশ বুথে ৫০এর অধিক ভোটারের মৃত্যু হলেও তালিকা থেকে নাম বাদ যায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বুথে বুথে সমীক্ষা করতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এই তথ্য পেয়েছে।  মঙ্গলবার এনিয়ে দলের শহর সভাপতির কাছে নালিশ জানানোয় শোরগোল পড়ে যায়। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, অনেক বছর আগে মৃত্যু হয়েছে এমন ব্যক্তির নামও ভোটার তালিকায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের গাফিলতিতেই এমনটা ঘটেছে। অবিলম্বে তদন্ত করে মৃতদের নাম বাদ না দিলে আগামী বিধানসভা ভোটে প্রক্সি ভোটের আশঙ্কা থাকবে। এনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিষ্ণুপুর শহর সভাপতি সুনীল দাস বলেন, পুরসভার ১৯টি ওয়ার্ডেই তালিকায় কমবেশি মৃত ভোটারের নাম রয়ে গিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে বলা হয়েছে। 

Advertisement

এব্যাপারে বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিত ঘোষ বলেন, মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে গেলে পরিবারের লোকেদের ৭ নম্বর ফর্ম ফিলআপ করে সংশ্লিষ্ট বুথ লেবেল অফিসার তথা বিএলও-র কাছে জমা দিতে হয়। কিন্তু অনেকেই নানা কারণে তা দেননি। সেজন্য তালিকায় অনেক মৃত ভোটারের নাম রয়ে গিয়েছে। 
বিষ্ণুপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা শুভাশিস অধিকারী বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে দু’টি বুথ রয়েছে। ভোটার তালিকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করেছি। তাতেই দেখা গিয়েছে, একশোর বেশি মৃত ভোটারের নাম রয়েছে। এমনকী, ১০ বছর আগে মৃত্যু হয়েছে এমন ব্যক্তিরও নাম তালিকায় রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট বিএলওদের বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু তাঁরা এর কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। 
পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শ্রীকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের ওয়ার্ডের বুথের তালিকায় এমন অনেক ভোটারের নাম পেয়েছি। যাঁরা মারা গিয়েছেন। আমরা চাই, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে অবিলম্বে ওই নামগুলি বাদ দেওয়া হোক। তা না হলে আগামী বিধানসভা ভোটে এনিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। এমনকী, প্রক্সি ভোটের আশঙ্কাও প্রবল। 
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর পুরসভার ১৯টি ওয়ার্ডে মোট ৬৪টি বুথ রয়েছে। প্রতি বুথে একজন করে বিএলও রয়েছেন। রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা বিএলওর সঙ্গে সমন্বয় রেখে মৃত ভোটারদের বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে না। তাই একদিকে মৃতের পরিবারের লোকেদের অনীহা, অন্যদিকে বিএলও এবং রাজনৈতিক এজেন্টদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেই এই সমস্যা হচ্ছে। আগামী দিনে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলে প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
                           • প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ