অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: ভোট নিতে পারব, ভোট দিতে পারব না। শনিবার সকালে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এই আক্ষেপ শোনা গেল কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক তথা প্রিসাইডিং অফিসার আজিজুল হকের গলায়। তিন দশক ধরে ধরে তিন শিক্ষকতা করছেন। ১৯৯৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এবার নির্বাচন কমিশনের খাতায় তিনি ‘অবৈধ’ ভোটার, যা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার ৩৯ নম্বর পার্টের ভোটার আজিজুল সাহেব। ধুবুলিয়া থানার অন্তর্গত নওপাড়া-২ পঞ্চায়েত এলাকায় তাঁর বাড়ি। পরিবারে ১১ জন সদস্যের নাম এবারের ভোটার তালিকায় থাকলেও তাঁরা নাম বাদ পড়েছে। আজিজুল সাহেব জানান, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম আছে। পরবর্তীতে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি দেখিয়ে তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়। তিনি শুনানিতে মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট এবং পাসপোর্ট সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। তারপরও তাঁর নাম তালিকায় ওঠেনি। অথচ তাঁকে নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই কারণে তিনি ফর্ম-১২ জমা দিয়েছেন। অর্থাৎ, নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনায় তিনি যথেষ্ট যোগ্য এবং ‘বিশ্বস্ত। কিন্তু তিনি আর কমিশনের স্বীকৃত ভোটার নন।
এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে যদি কারও ভোটার তালিকায় নাম না থাকে তাহলে তিনি কীভাবে ভোটগ্রহণের মতো সংবেদনশীল সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন। আজিজুল সাহেবের কথায়, আমার নিজের ভোটাধিকার রইল না। তাহলে অন্যের ভোটাধিকার কীভাবে আমি সুনিশ্চিত করব?
নদীয়া জেলায় ইতিমধ্যেই বিচারাধীন ভোটার, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা এবং শুনানি-পরবর্তী নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, এসআইআর বা বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ায় বহু ক্ষেত্রে পরিবার ভিত্তিক বা নথিভিত্তিক অসামঞ্জস্য দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, একই পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের নাম থাকলেও এক বা দু’জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোটার। যাঁরা নিয়মিত ভোট দিয়েছেন। কেউ সরকারি বা আধা-সরকারি চাকরি করেছেন বা অবসর নিয়েছেন। যদি তাঁদেরও নাম বাদ যায় তাহলে তাহলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াই স্বাভাবিক।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এ ক্ষেত্রে শেষ ভরসা ট্রাইবুনালে আবেদন করা। আজিজুল সাহেব বলেন, ‘আমার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতে ছিল। লজিক্যাল ডিসস্ক্রিপেন্সির কারণে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল।
আমি মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট এবং পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলাম। তারপরেও নাম বাদ গিয়েছে। এবার ট্রাইবুনালে আবেদন করব।