নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পাঁচবারের কাউন্সিলার। খড়দহে ভোটার তালিকায় বহু মানুষের নাম তোলা সহ নানা সমস্যায় তাঁকে পাশে দেখা গিয়েছিল এক সময়ে। এমনকী, ২০০২ সালে এসআইআরের সময় তালিকায় নাম তুলতে অনেককেই সাহায্য করেছিলেন এই প্রাক্তন কাউন্সিলার। অথচ, তাঁর নিজের নামই নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়! শুধু কাউন্সিলার নয়, পাঁচ-ছয় পুরুষ ধরে খড়দহে বসবাসকারী অনেক হিন্দু বাঙালির নামও ২০০২ সালের তালিকা থেকে উধাও। তাঁরা ২০০০ সালের কয়েক দশক আগে থেকেই ভোট দিয়ে আসছেন এই বঙ্গে। এ নিয়ে খড়দহজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শাসকদল এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বিজেপিকেও কটাক্ষ করেছে।
খড়দহের ঐতিহ্যবাহী শ্যামসুন্দর মন্দির লাগোয়া এলাকাতেই বাড়ি তাপস দাশগুপ্তের। তাপসবাবু ১৯৯৫ সালে প্রথম কংগ্রেসের টিকিটে কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে তিনি হন তৃণমূলের কাউন্সিলার। এরপর একটানা ২০২১ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলার ছিলেন। এই প্রভাবশালী কাউন্সিলার অবশ্য ২০২২ সালে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির শিকার হন। তবে পুরভোটে টিকিট না পেলেও বর্ষীয়ান তাপসবাবু দলের কাজে সব সময় যুক্ত। এসআইআর লাগু হতেই তিনি কমিশনের প্রকাশিত ২০০২ সালের সালের ভোটার তালিকা খুঁজে দেখেন, সেখানে তাঁর নাম নেই। তাপসবাবুর মতো খড়দহ পুরসভার ১৪, ১৬ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ৪০ জন প্রবীণ বাসিন্দার নাম তালিকা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে।
তাপসবাবু বলেন, ‘আমি কত মানুষকে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সাহায্য করি। অথচ, আমার নাম নেই ২০০২ সালের তালিকায়। অথচ, যেদিন থেকে ভোট দেওয়ার বয়স হয়েছে, তখন থেকেই আমি নিয়মিত ভোট দিচ্ছি। শুধু আমার নয়, আমার ভাই ও বোনের নামও ওই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। শুনছি, আমার মতো এলাকার অনেক মানুষের নাম তালিকায় নেই। কীভাবে এটা সম্ভব? আমি ভোটার না হলে কীভাবে ১৯৯৫ সাল থেকে পুরসভার ভোটে লড়লাম? সত্য সেলুকাস, বিচিত্র এই দেশ ও নির্বাচন কমিশন।’
খড়দহের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশ্বনাথ দাস। ২০০২ সালে তাঁর ভোট দেওয়ার বয়স হয়নি। কিন্তু তাঁর বাবা ও মায়ের নাম ভোটার তালিকায় ছিল। পরবর্তীকালে বিশ্বনাথবাবুর নাম ওঠায় ভোট দিচ্ছেন। খড়দহে প্রায় ছয় পুরুষ ধরে তাঁদের বাস। অথচ, এবার তিনি দেখছেন, তাঁর বাবা ও মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। স্থানীয় বাসিন্দা তথা তৃণমূলের দমদম-বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার নমশুদ্র উদ্বাস্তু সেলের সাধারণ সম্পাদক চন্দন রায় বলেন, তাপসবাবু ছাড়াও খড়দহে পাঁচ-ছয় পুরুষ ধরে বসবাস করে, এমন বহু পরিবারের নাম কমিশনের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। তিনটি ওয়ার্ডে অন্তত ৪০ জন ভোটারের এমন সমস্যা হয়েছে। দলের পাশাপাশি প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমরা তাঁদের পাশে রয়েছি। কোনও সাধারণ মানুষ এসআইআরের জন্য হেনস্তার মুখে পড়লে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।