Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নাম যত কেটেছে, ভোট তত বেড়েছে, হুংকার অভিষেকের, বাংলার বদলায় ভোকাট্টা বিজেপি

ছকটা ভুল হয়ে গেল বিজেপির। এ যেন বাংলার মানুষের নাম কাটতে গিয়ে নিজেরই নাক কেটে যাওয়ার মতো অবস্থা! প্রথম দফার ভোটের নির্যাস এটাই। বলছে রাজনৈতিক মহল। বলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

নাম যত কেটেছে, ভোট তত বেড়েছে, হুংকার অভিষেকের, বাংলার বদলায় ভোকাট্টা বিজেপি
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছকটা ভুল হয়ে গেল বিজেপির। এ যেন বাংলার মানুষের নাম কাটতে গিয়ে নিজেরই নাক কেটে যাওয়ার মতো অবস্থা! প্রথম দফার ভোটের নির্যাস এটাই। বলছে রাজনৈতিক মহল। বলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর সাফ ব্যাখ্যা, ‘সাধারণ মানুষের নাম বিজেপি যত কেটেছে, তৃণমূলের ভোট তত বেড়েছে।’ বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ১৫২টি আসনের নির্বাচনে দিনভর নজর ছিল রাজ্যবাসীর। যে বিপুল ভোট পড়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই তৃণমূল বলছে, এসআইআরের বিরুদ্ধে বিজেপিকে যোগ্য জবাব দিতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। মানুষের এই বিরাট সমর্থন, তৃণমূলের জয়ের রাস্তাকেই প্রশস্ত করছে।

Advertisement

গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত একটানা সাত মাস বাংলার মানুষের উপর এসআইআরের নামে চলেছে চূড়ান্ত হয়রানি। এই গোটা প্রক্রিয়াকে সোজা কথায় বিজেপি-কমিশন আঁতাত বলেই লাগাতার তোপ দেগেছে তৃণমূল। আজ বাংলার শাসক দলেরই দাবি, লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে বাংলায় পরিবর্তনের যে পরিকল্পনা বিজেপি করেছিল, তাতে জল ঢেলে দিয়েছে বঙ্গবাসীই। এই সমীকরণের সাক্ষী থাকতেই সারাদিন তৃণমূলের কন্ট্রোল রুমে বসে ভোট পর্যবেক্ষণ করেছেন সেনাপতি অভিষেক। তারপর সন্ধ্যায় মেটিয়াবুরুজের সভায় দেখা গিয়েছে তাঁর চওড়া হাসি। তিনি বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষের নাম কেটে বাংলা দখল করবে ভেবেছিল বিজেপি। কিন্তু বাংলার মানুষের বিপুল ভোটে ভোকাট্টা হয়ে গিয়েছে ওরা। বিজেপি ভেবেছিল, বাংলার মানুষের নাম কেটে তৃণমূলের ভোট আটকাবে। কিন্তু বিজেপি নেতারা ভুলে গিয়েছেন, আমরা ঘাসফুল। বিজেপি নেতাদের জেনে রাখা উচিত, ঘাস যত কাটবে, তত বাড়বে।’
এদিন ভোর ৫টা থেকে তৃণমূলের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছিল। তখন থেকেই উপস্থিত ছিলেন অভিষেক। ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল কন্ট্রোল রুম থেকে। কোথায় কী সমস্যা, ভোট কেমন পড়ছে, তার তথ্য নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো অসংগতি ধরা পড়লে, তৎক্ষণাৎ কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। সেইসঙ্গে বুথ লেভেল এজেন্টেদের সঙ্গে বুথ রক্ষায় ভোটের আগের দিন রাত সাড়ে ৩টে পর্যন্ত সঙ্গী ছিলেন তৃণমূল সেনাপতি। প্রথম দফার ভোটে তৃণমূল কতটা আশাবাদী? অভিষেকের উত্তর, ‘প্রথম দফার ভোটে রফাদফা করে দিয়েছি বিজেপির। আর এক দফা বাকি। ২৯ এপ্রিল বাংলা বিরোধী বিজেপিকে ল্যাজেগোবরে করে বাংলাছাড়া করব। আর ৪ মে ভোটবাক্স খোলার পর বিজেপি নেতারা চোখে সরষে ফুল দেখবেন।’
এদিন তৃণমূল ভবন থেকেও নেতারা দিনভর ভোটের পর্যবেক্ষণ করেছেন। পরে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ দাবি করেন, ‘৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মানে হল, বিপুল সংখ্যক মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়ে বিজেপিকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। প্রথম দফায় তৃণমূল ১২৫ থেকে ১৩৪টি আসন পাবে।’
২৯ এপ্রিল শেষ দফায় ১৪২টি আসনে ভোট হবে। তার জন্য ভোট  স্ট্র্যাটেজি সাজিয়েছেন অভিষেক। বিজেপির ভোটচুরি আটকানোই তৃণমূলের মূল পরিকল্পনা। বুথের যে তৃণমূল কর্মীরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন, তাঁদের কুর্নিশ জানিয়েছেন তৃণমূল সেনাপতি। সেইসঙ্গে তাঁর বার্তা, ‘৬-৭ মাস পর পুরভোট। পুরসভাগুলিকে আমরা নতুন করে সাজাব। যাঁরা ২৪ ঘণ্টা, ৩৬৫ দিন মানুষের পাশে থাকেন, ভালো মানুষ হিসাবে চিহ্নিত, তাঁরাই সুযোগ পাবেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ