


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ ও বসিরহাট: ২০২১ সালের থেকেও বেশি আসন নিয়ে ফের বাংলায় সরকার গড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মানুষ ওঁর উপর ভরসা আর বিশ্বাস রাখেন। বৃহস্পতিবার বিকালে বসিরহাটে নির্বাচনি জনসভায় এসে এমনই দাবি করলেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব। এদিন বসিরহাট ছাড়াও বনগাঁ, অশোকনগর, দেগঙ্গায় নির্বাচনি প্রচার করেন তিনি। তবে, তাঁর কর্মসূচিতে কাঁটছাঁট করতে হয় সময়ের জন্য। অভিযোগ, কপ্টার ওড়ার নির্দিষ্ট সময়ে অনুমতি দেয়নি দপ্তর। ফলে, প্রতিটি কর্মসূচি পিছিয়ে যায়। এক্ষেত্রে চক্রান্তেরও অভিযোগ তুলছে তৃণমূল। তাদের দাবি, এটা পরিকল্পনা করে করা হয়েছে।
এদিন বিকালে বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র ওরফে বাদলের সমর্থনে নির্বাচনি প্রচারে আসেন দেব। কর্মসূচি বেলা ১১টায় হওয়ার কথা থাকলেও এয়ারপোর্ট অথরিটির অনুমতি না মেলায় কপ্টার উড়তে পারেনি। বিকালে এলিয়ান ক্লাবের ময়দানে অভিনেতার কপ্টার নামতেই তাঁকে দেখার জন্য ভিড় জমায় আট থেকে আশি। মঞ্চ থেকে দেব বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় বাংলা প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলেছে। তাই দিদিকে চতুর্থ বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসাতে বাদল’দাকে আগামী ২৯ তারিখে জোড়া ফুল চিহ্নে ভোট দেবেন। দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সালের থেকেও বেশি আসন নিয়ে ফের বাংলায় সরকার গড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতবারের তুলনায় ৫-১০টা আসন বাড়বে দলের।
পাশাপাশি বৃহস্পতিবার বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্যর সমর্থনে সভা করেন দেব। চাঁদপাড়া মিলন সংঘের মাঠে সভা করেন তিনি। সভায় সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড় ছিল। বিশেষ করে মহিলাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ সাংসদের সভায় আসার কথা থাকলেও দেরিতে আসেন। এর জন্য একটি অডিয়ো বার্তা পাঠান তিনি। জানান, দীর্ঘক্ষণ বেহালা হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে বসে থাকলেও হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি না পাওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। বার্তা মাইকে শোনানো হয়। এরপর মধ্যে মাঠ ফাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে মাইকে ঘোষণা হয় দেব আসছেন। পৌনে তিনটে নাগাদ হেলিকপ্টারে সভাস্থলে পৌঁছন। প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্যকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে আবেদন করেন। প্রিয় অভিনেতাকে কাছ থেকে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি অনেকে। বিকালে অশোকনগর ও দেগঙ্গার তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী ও আনিসুর রহমানের সমর্থনে রোড শো করেন দেব। প্রতিটি জায়গায় মানুষের ভিড় ছিল উপচে পড়া। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল নজরকাড়া।