নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: স্কুটিই যেন চলন্ত ‘বার’। সিটের নীচে বোতলে মজুত রঙিন পানীয়। চোলাই থেকে বিদেশি, কী নেই ভাণ্ডারে। একটা ফোন করলেই নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে যাচ্ছিল চলমান বার। যার যা পছন্দ সবই পাওয়া যাচ্ছিল। এভাবেই বেশ কিছুদিন ধরে অবৈধভাবে মদের কারবার চলছিল। কিন্তু রবিবার আর রক্ষা হল না। পুলিস ভাতারের মুরাতিপুর থেকে দুই কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম সুরজ পণ্ডিত ও সৌরভ দাস। পুলিস স্কুটিটিও বাজেয়াপ্ত করেছে। তারা বিজয়রাম থেকে চোলাই এনে ভাতারের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করত। পুলিস জানিয়েছে, চোলাইয়ের বিরুদ্ধে জেলাজুড়ে অভিযান চলছে। কয়েকদিন আগে মেমারি থানার পুলিস প্রচুর চোলাই মদ নষ্ট করেছে। অন্যান্য থানা এলাকাগুলিতেও অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু এভাবে স্কুটিতে ‘বার’ দেখে আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের বিজয়রামেও একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছিল। এখানে বিভিন্ন জায়গায় চোলাই মদ তৈরির কারখানা রয়েছে। এই এলাকা থেকে কারবারিরা মদ নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে। পুলিসের চোখে ধুলো দিতে এর আগে এখান থেকে চারচাকা গাড়িতেও চোলাই পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিস জানতে পেরেছে, ভাতার থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দুই কারবারি প্রতি সন্ধ্যাতেই বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মদ বিক্রি করত। তাদের ফোন নম্বর ‘গ্রাহক’দের কাছে রয়েছে। ফোন পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা পৌঁছে যায়। হাতের কাছে মদ পৌঁছে দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঘরে তৈরি মদ খেয়ে জেলায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে। লক্ষ্মীপুর মাঠ এলাকায় দেশি মদ বিক্রি করা হতো। তা খেয়ে দেড় বছর আগেই চারজন মারা গিয়েছেন। তারপরও নেশাগ্রস্তরা শিক্ষা নেয়নি। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাইক চালাতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। সেকারণে শহরগুলিতে বিশেষ মেশিনের মাধ্যমে চেকিং করা হচ্ছে। কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় এখনও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে না। তারই ফায়দা তুলছে চলমান বারের কারবারিরা। তারা প্রতি গ্লাস চোলাই ৩০টাকায় বিক্রি করে। অন্য মদ বোতল পিছু ৫০টাকার বেশি নেয়। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, চোলাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিটি থানা এলাকায় অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব জায়গায় কারখানা রয়েছে সেগুলি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
ভাতার থানার পুলিস জানিয়েছে, ধৃত ওই দু’জনের সঙ্গে আরও অনেকেই যুক্ত রয়েছে। তাদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। এলাকা নেশামুক্ত করতে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে। আগের তুলনায় এই কারবারের রমরমা অনেক কমে গিয়েছে।