Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সন্দেশখালিতে জাল নোট কাণ্ডে এখনও ফেরার মূলচক্রী

পুলিসি নজর এড়াতে ঠাঁই নিয়েছিলেন তারাপীঠের সবচেয়ে দামি রিসর্টে। সঙ্গে দুই পোষ্য।

সন্দেশখালিতে জাল নোট কাণ্ডে এখনও ফেরার মূলচক্রী
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট এবং নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পুলিসি নজর এড়াতে ঠাঁই নিয়েছিলেন তারাপীঠের সবচেয়ে দামি রিসর্টে। সঙ্গে দুই পোষ্য। কিন্তু, গা ঢাকা দেওয়ার যাবতীয় প্ল্যানে জল ঢেলে দিল মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক। পরিচিত লোকজনকে ফোন করতেই রিসর্টের ২১০ নম্বর ঘরের দরজায় উপস্থিত হয় সন্দেশখালির পুলিস। তদন্তকারীদের জালে ধরা পড়েন জাল নোট কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত তিস্তা সেন। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় রাজারহাটের বাসিন্দা বছর চল্লিশের ‘রহস্যময়ী’কে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিস পাকড়াও করতে পারেনি চক্রের মাথা অভিষেক তেওয়ারিকে। তিনি ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে জাল নোটের কারবার চালায়। 

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, তিস্তার গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে রিসর্টের কর্মীরা জানান, দিন পনেরো আগে স্বামীকে নিয়ে এখানে উঠেছিলেন ‘রহস্যময়ী’। দু’দিন থাকার পর ওঁরা চলে যান। গত শনিবার সকালে তিস্তা একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ে একা ফের রিসর্টে আসেন। সঙ্গে দু’টি কুকুর ও একটি লাগেজ ব্যাগ ছিল। একা থাকার কারণে প্রথমে রুম ভাড়া দিতে চায়নি কর্তৃপক্ষ। পরে স্বামীও আসছে বলায় রুম দেওয়া হয়। কিন্তু রুমে ঢোকার পর থেকে আর বের হননি। এমনকি খাওয়ার জন্য আলাদা রেস্টুরেন্ট থাকলেও, তিনি রুমেই নিজের এবং কুকুরের জন্য খাবার আনিয়ে নিতেন।   
পুলিস সূত্রে খবর, ২১০ নম্বর ঘরে বসে তিনবার পরিচিতদের ফোন করেন তিস্তা। তাঁর ফোন ট্র্যাক করছিল পুলিস। সেই সূত্রে ধরেই সন্দেশখালির পুলিস রবিবার রাতে রামপুরহাট থানার পুলিসকে নিয়ে রিসর্টে হানা দেয়। প্রথমেই হোটেলের রেজিস্টার খতিয়ে দেখে পুলিস। রিসর্টের মালিক আশিস মণ্ডল বলেন, ‘রবিবার রাতের দিকে সাদা পোশাকে পুলিস এসে ওই মহিলার খোঁজখবর শুরু করে। রেজিস্টারের সঙ্গে থাকা আইডি মিলিয়ে ওই মহিলাকে রুম থেকে ধরে নিয়ে যায়।’ পুলিস জানিয়েছে, সোমবার সকালেই তিস্তার ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে যাওয়ার প্লান ছিল। 
পুলিস সূত্রে খবর, সন্দেশখালির জাল নোট কাণ্ডে দেবব্রত ও সিরাজউদ্দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঝাড়খণ্ডে চলে যাওয়ার প্ল্যান করে তিস্তা। তাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছে চক্রের মাস্টারমাইন্ড অভিষেক তেওয়ারি। শনি ও রবিবার তিস্তার সঙ্গে অভিষেকের একাধিকবার ফোনে কথাবার্তা হয়েছে। এমনকী, সিরাজউদ্দিন ও দেবব্রত গ্রেপ্তার হওয়ায়, তাদের কী করণীয়, তা নিয়েও ফোনে আলোচনা হয়েছে বলেও তদন্তকারীদের জানিয়েছে ধৃত তিস্তা। ধৃত তিস্তার কল ডিটেইলস রেকর্ড ঘেঁটে অভিষেক তিওয়ারির সন্ধান পেতে মরিয়া সন্দেশখালি পুলিস। ফেরার মাস্টারমাইন্ডের লোকেশন ট্র্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ