নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে নেহা এলেন! জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে দিল্লিতে তিনদিন পরপর আটক হওয়ার পর আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা এলেন কলকাতায়। সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর ডাকে কনভেনশনে যোগ দিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রেক্ষাগৃহেই অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। কিন্তু ভিড়ের ঠেলায় গান্ধী ভবনের চাতালে কনভেনশন করতে হল। বাম হাত কোমড়ে রেখে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিজেপি-আরএসএসকে বিধঁলেন নেহা। বললেন, ‘যে সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে সামনে রেখে বিজেপি এত কিছু করছে, এখন সকলে জানেন জ্ঞানেশ কুমারের এসআইআরের ভিত্তিতে মেলা ওই জনাদেশ, মিথ্যা ছাড়া কিছু নয়। এই জনাদেশ গণতন্ত্রের সঙ্গে গদ্দারি’।
সমস্ত বামছাত্র সংগঠনের ডাকে এই কনভেনশে নেহার সঙ্গে বক্তব্য রাখেন এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। এছাড়াও এসআরএফটিআই থেকে ব্লসম, শুভম, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আফরিন, ককরোচ পার্টির দেদীপ্য সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব বক্তব্য রাখেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কে পি বসু মেমোরিয়াল হলে ‘জেন জি’ উত্থান, এনটিএ, এনইপি, এসআইআর নিয়ে এই কনভেনশনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হলে লোক সমাগম বাড়তেই থেকেছে। সর্বশেষ বক্তা নেহা। হাতে মাইক তুলে নিয়ে বলেন, ‘মারধর বা ভয় দেখিয়ে বামপন্থাকে হাঁটু গেড়ে বসানো যাবে না। কারণ বামপন্থা ভয় পায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা ভাবে যন্তর মন্তর, যাদবপুর বা এসআরএফটিআইতে রক্ত ঝরিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে, তাঁরা ইতিহাস পড়েনি।’ ভিয়েতনাম-কিউবায় সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন নেহা। এসআইআরের বিরুদ্ধে তিনি বলেন, ‘বাংলার প্রগতিশীল চিন্তাধারাকে স্তব্ধ করতে এসআইআর তৈরি হয়েছিল। ভেবেছিল বাংলা চুপ করে যাবে।’ এরই মাঝে উদ্যোক্তারা ঘোষণা করেন, ৪ নম্বর গেটের বাইরে এবিভিপি ভিড় করছে। এদিন সকালেই ক্যাম্পাসে বহিরাগত আসা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল এবিভিপি।
অন্যদিকে, প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কোয়েল মল্লিকের বিজেপি যোগদান নিয়ে এদিন কটাক্ষ করেন সৃজন। তিনি আরও বলেন, ‘হাস্যরস দিয়েও যে পুলিশের লাঠির মোকাবিলা করা যায়, সেটা জেন জি শেখাচ্ছে।’ সেই জেন জি-র ‘রাজনৈতিক আইকন’ নেহা সোমবার রাতে কলকাতাতেই থাকবেন। আজ, মঙ্গলবার সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা রয়েছে তাঁর। অভাবনীয় বিষয় হল, মঙ্গলবার সিপিএমের কৃষক সভার দপ্তর হরেকৃষ্ণ কোঙার ভবনে তাঁদের সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা। দিল্লি পুলিশের বহু ধস্তাধস্তি কাটিয়ে নেহা কলকাতায় এসেছেন। গতবার এসেছিলেন ১১ আগস্ট। সেবার রামমোহন হলের অদূরে দক্ষিণপন্থীরা বামপন্থীদের বিরুদ্ধে পোস্টার বিলি করেছিলেন। এবার যাদবপুরের ভিড়ে ঠাসা কর্মসূচিতে এসে কোনো একজন নেহার হাতে পদ্মফুলের দুটি কুঁড়ি দিয়ে যান।