লন্ডন: রবিন হুডের স্মৃতিবিজড়িত ‘দ্য মেজর ওকের’ মৃত্যু হয়েছে, দাবি বিজ্ঞানীদের। ১২০০ বছরের পুরনো এই গাছটি ছিল ইংল্যান্ডের অন্যতম প্রাচীন গাছ। ব্রিটেনের সংস্থা রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব বার্ডস(আরএসপিবি) জানিয়েছে, চলতি বসন্তে গাছটিতে নতুন কোনো পাতা গজায়নি। এর থেকেই বিজ্ঞানীদের ধারণা, গাছটি কার্যত মৃত।
গরিবের ত্রাতা হিসাবেই পরিচিত রবিন হুড। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি অনুযায়ী, ধনীদের অর্থ লুট করে তা গরিবদের বিলিয়ে দিতেন তিনি। তবে স্রেফ লোককথা নয়, বাস্তবেও তাঁর অস্তিত্ব ছিল বলে দাবি করেন বহু ইতিহাসবিদ। শোনা যায়, ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামশায়ারের শেরউড জঙ্গলে ছিল তাঁর গোপন আস্তানা। সেখানে রবিন হুডের খোঁজে হানা দিত আইন রক্ষকরা। এইসময় একটি বিশেষ গাছের আড়ালে লুকোতেন রবিন হুড। সেই গাছের নামই দ্য মেজর ওক। ডালপালা নিয়ে প্রায় ২৮ মিটার বিস্তৃত এই গাছ। প্রায় ১১ মিটার মোটা কাণ্ড নিয়ে এটি ছিল ব্রিটেনের অন্যতম বৃহত্তম গাছ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর পর্যটকদের ভিড়ের কারণে গাছটির চারপাশের মাটি বেশ শক্ত হয়ে যায়। ফলে এতবড় গাছের জল সঞ্চালনে সমস্যা হচ্ছিল। পাশাপাশি টানা কয়েক বছরের তীব্র গরম ও খরার প্রভাবে আরও দ্রুত গাছটি নষ্ট হতে থাকে। তাও গতবছর অবধি নতুন পাতা গজাত দ্য মেজর ওকে। এবছর আর দেখা যায়নি। গাছটিকে বাঁচাতে স্থানীয় প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নেয়। তাতেও হয়তো শেষরক্ষা সম্ভব নয়।
মধ্যযুগীয় কাহিনিতে ‘মেজর ওক’-এর সরাসরি উল্লেখ নেই। ১৯৭০ সালে ইংরেজ প্রত্নতত্ত্ববিদ মেজর হেইম্যানের লেখায় প্রথম এর উলেখ মেলে। অনেকে বলেন, এখান থেকেই গাছটির নাম নাম হয় ‘দ্য মেজর ওক’। তবে এটি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। প্রতিদিন এই গাছ দেখতে দেশবিদেশের পর্যটকরা ভিড় জমান। অনেকের কাছে এই গাছ রবিনহুড ট্রি নামেও পরিচিত। তাই গাছটিকে সংরক্ষণ করা হবে বলেই জানিয়েছে আরএসপিবি। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মৃত্যু হলেও দ্য মেজর ওকে কাটা হবে না। বরং শেরউড জঙ্গলে এই গাছটিকে প্রাকৃতিক স্মৃতিস্তম্ভ হিসাবেই রাখা হবে।