Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মমতার প্রস্তাবিত কোচ ফ্যাক্টরি না হওয়াই প্রচারে প্রধান হাতিয়ার ঘাসফুল শিবিরের, বিজেপিই সব ভন্ডুল করেছে, বলছেন বীজপুরবাসী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন কাঁচরাপাড়াকে আমূল বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। রেলওয়ে ওয়ার্কশপের বরাত যেমন বাড়িয়েছিলেন, তেমনই নতুন কোচ ফ্যাক্টরি করার জন্য অর্থ বরাদ্দও করেছিলেন।

মমতার প্রস্তাবিত কোচ ফ্যাক্টরি না হওয়াই প্রচারে প্রধান হাতিয়ার ঘাসফুল শিবিরের, বিজেপিই সব ভন্ডুল করেছে, বলছেন বীজপুরবাসী
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন কাঁচরাপাড়াকে আমূল বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। রেলওয়ে ওয়ার্কশপের বরাত যেমন বাড়িয়েছিলেন, তেমনই নতুন কোচ ফ্যাক্টরি করার জন্য অর্থ বরাদ্দও করেছিলেন। হালিশহরে জায়গা চিহ্নিত করে প্রস্তাবিত কারখানার শিলান্যাসও হয়েছিল। কিন্তু সেখানে এখনও ফাঁকা মাঠ, শিলান্যাসের শিলার কোনো খোঁজ নেই, গাঁথা হয়নি একটি ইটও। লোহার গেট ভাঙা। গোটা মাঠ জঞ্জাল ফেলার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়ার পর আর ওই প্রকল্পে কোনো অর্থ বরাদ্দ হয়নি। রেলের এই বিমাতৃসুলভ আচরণই এখন তৃণমূলের প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার। 

Advertisement

বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারী বলছেন, রাজ্য সরকার এখানে অনেক উন্নয়নের অনেক কাজ করেছে ঠিকই। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা ঘিরে রয়েছে বীজপুরকে। কাঁচরাপাড়ার মোট জমির ৭০ শতাংশই রেলের। তাই এই শহর অনেকটাই রেলের উপর নির্ভরশীল। বিজেপি এখন বড়ো বড়ো কথা বলছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কোচ ফ্যাক্টরি করার পরিকল্পনা করেছিলেন, তার বাস্তবায়ন করা হলো না কেন? আজ ওই কোচ ফ্যাক্টরি হলে, বহু মানুষের কর্মসংস্থান হতো। বাংলার প্রতি এর চেয়ে বড়ো বঞ্চনা আর কী হতে পারে? এছাড়া রেলওয়ে ওয়ার্কশপে ১২০০০ পদ শূন্য রয়েছে। সেগুলিও পূরণ করা হচ্ছে না। নতুন নিয়োগও হচ্ছে না। আস্তে আস্তে সংকুচিত হচ্ছে রেলওয়ে ওয়ার্কশপ। অথচ রেলের এই বিমাতৃসুলভ আচরণ নিয়ে কোনো কথা বলছে না বিজেপি। 
রেলের বিরুদ্ধে তৃণমূলের এই প্রচার নিয়ে অবশ্য রেল কোনো মন্তব্য করেনি। সিপিআরও জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলের প্রচার নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে রেলশহর কাঁচরাপাড়ায় রেলের বিমাতৃসুলভ আচরণ এবং অসহযোগিতা বেশ বেকায়দায় ফেলেছে বিজেপিকে। তারা এই ব্যাপারে কোনো জবাব দিতে পারছে না। উল্টে প্রচারে পুরসভা সহ তৃণমূলের প্রশাসনিক ত্রুটি বিচ্যুতি তুলে ধরেছে। তবে বিজেপি যে হুমকির রাজনীতি শুরু করেছে বীজপুরে, তাতে গোলমালের আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক মহল। ইতিমধ্যে ২৬টি বোমা পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। প্রায় রোজই পতাকা খোলা, পোস্টার নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও বিধায়ক সুবোধ অধিকারী বিজেপির এইসব হুমকিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি তাঁর নিজের টিম নিয়ে নিজের মতো ভোট ম্যানেজমেন্ট করছেন। প্রচারে রেল তথা কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন। এছাড়া বিধায়ক হিসাবে পাঁচ বছরে রামপ্রসাদের ভিটে সহ গঙ্গার ঘাট, খেলার মাঠ, রাস্তাঘাট সংস্কারের যে যে কাজ করেছেন, তার উপর ভরসা করেই জেতার ব্যাপারে নিশ্চিত তিনি। এখন মার্জিন কত বাড়ে, সেদিকেই তাঁর লক্ষ্য।

সম্পর্কিত সংবাদ