নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সরকারের আর্থিক সহযোগিতা স্বনির্ভর করেছে নারীদের। এবার দুর্গার আরাধনার ক্ষেত্রেও উৎসাহ ক্রমে বাড়ছে। পুজোয় আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বেড়েছে। তার হাত ধরেই বহু মহিলা নতুন পুজো শুরু করবেন বলে আবেদন জমা করেছেন চুঁচুড়া কেন্দ্রীয় দুর্গোৎসব কমিটির কাছে।
কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির কর্তাদের বক্তব্য, চুঁচুড়ায় পুজোর সংখ্যা বাড়বে। পাশাপাশি মহিলা পরিচালিত পুজোর সংখ্যা দ্রুত সেঞ্চুরি করে ফেলবে। ৩৬ বছর পার করা কেন্দ্রীয় পুজোর তালিকা অনুযায়ী, মহিলা পুজোর সংখ্যা সম্প্রতি হাফ সেঞ্চুরি পার করেছে। সেটা হয়েছে পুজোর জন্য সরকার লক্ষ্মীর ঝাঁপি খুলে দেওয়ার পর।
চুঁচুড়ার পুরপ্রধান এবং কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির কার্যকরী সভাপতি অমিত রায় বলেন, ‘দুর্গাপুজোর জন্য আর্থিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। তার ফলে সবথেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে মহিলাদের পুজো আয়োজনের ক্ষেত্রে। চুঁচুড়ার মহিলারা বরাবরই সংগঠিত এবং উৎসাহী। কিন্তু আগ্রহ থাকলেও পুজোর টাকা জোগাড় করতে সমস্যা হতো। সে সমস্যা মিটে যাওয়ায় গত কয়েক বছরে মহিলা পুজোর সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। গতবছর ৫৭টি পুজো হয়েছিল। এ বছর সে সংখ্যা ৬০ পেরিয়ে যাবে। তবে যত সংখ্যক আবেদন জমা পড়বে চলতি বছরে তার সব অনুমোদন পাবে না।’ সাংস্কৃতিক কর্মী সৌমিত্র সিংহ বলেন, ‘যখন সরকারি সাহায্য ছিল না তখন মহিলারা টাকা জমিয়ে সাহায্য নিয়ে পুজো করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে খরচ বাড়তে থাকায় উৎসাহে ভাটা দেখা দেয়। এখন যা আর্থিক সাহায্য মেলে তাতে পুজোর খরচের বড় অংশ উঠে আসে। ফলে নতুন প্রজন্মের মহিলারা পুজো করার তাগিদ ফিরে পাচ্ছেন।’
হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়ার কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০০ পুজো হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত সেখানে মহিলা পরিচালিত পুজোর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করতেই মহিলা পুজোর পালে তুফান লাগে। নতুন করে অনুদান বৃদ্ধির জেরে তুফানে লেগেছে বাড়তি বাতাসের টান। চলতি বছর অন্তত পাঁচটি মহিলা পরিচালিত পুজো কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকায় জুড়ে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত। তারপর শতকের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলা বোধহয় শুধুই সময়ের অপেক্ষা।