Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মেশিন এসে পড়ে রয়েছে, হয়নি প্রশিক্ষণও চালুই হল না জয়নগরের মোয়া হাব

জয়নগরের বিখ্যাত মোয়া। জিআই পাওয়ার পরে রাজ্যের এই মিষ্টান্ন আরও বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।

মেশিন এসে পড়ে রয়েছে, হয়নি প্রশিক্ষণও চালুই হল না জয়নগরের মোয়া হাব
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: জয়নগরের বিখ্যাত মোয়া। জিআই পাওয়ার পরে রাজ্যের এই মিষ্টান্ন আরও বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। এর প্রসার ঘটাতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে মোয়া হাব তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলও এই হাব চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এরপরে খাদি গ্রামীণ শিল্প বোর্ড জয়নগর মজিলপুর পুরসভা এলাকায় মোয়া হাবের বাড়িও তৈরি করে ফেলেছিল। সেখানে ইতালি থেকে এসে গিয়েছে প্যাকেজিং মেশিন। মোয়া ব্যবসায়ী ও গুড় প্রস্তুতকারীদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল জয়নগর মোয়া হাব সোসাইটি। কিন্তু এত কিছুর পরেও মোয়া হাব চালু হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। কবে এটি চালু হবে, তা নিয়েও তাঁরা কিছু জানেন না।

Advertisement

বিষয়টি নিয়ে খাদি গ্রামীণ শিল্প বোর্ডের এক কর্তা বলেন, দ্রুত চালু হবে মোয়া হাব। কিন্তু মেশিন চালানোর ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের তো এখনও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কেন এই অবস্থা? এই ব্যাপারে খাদি গ্রামীণ শিল্প বোর্ডের ওই কর্তা বলেন, দেখা হচ্ছে বিষয়টি।
এদিকে, মোয়া হাব এখনও চালু না হওয়ায় বিরক্ত জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলও। তিনি বলেন, আমি নিজে বারংবার ব্যবসায়ীদের, প্রশাসনকে নিয়ে মিটিং করে সোসাইটি করে দিয়েছিলাম। তারপরেও হাব চালু করতে কেন এত সময় লাগছে, আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। জয়নগর মজিলপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পুরসভার একটি মাঠ আছে। সেখানে সাড়ে চার কাঠা জমিতে হাবটি তৈরি হয়েছে। সেজন্য দুই কোটি ১২ লক্ষ টাকা খরচও হয়েছে। গত বছরে জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের শিল্প উন্নয়ন আধিকারিকের উদ্যোগে জয়নগর মোয়া হাব সোসাইটি গঠন হয়েছিল। ৪০ জন সদস্য আছেন সেই সোসাইটিতে। ন’জন আছেন মূল কমিটিতে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, মোয়া ব্যবসায়ীদের মেশিন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোয়ার গুণমান ঠিক রাখার জন্য সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোথায় কী! কোনও কাজই এগয়নি বলে অভিযোগ।
জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের শিল্প উন্নয়ন আধিকারিক শিউলি পাখিরা বলেন, আমি নতুন এসেছি। আমার কিছু জানা নেই এই ব্যাপারে। এদিকে, বহড়ুর মোয়া ব্যবসায়ী রঞ্জিত ঘোষ, বাবলু ঘোষ বলেন, প্যাকেজিং মেশিন কয়েক মাস ধরে পড়ে আছে হাবে। অন্য মেশিনও পড়ে আছে। কিন্তু হাব চালু হয়নি। এমনকী কীভাবে কাজ করতে হবে, তা নিয়ে প্রশিক্ষণও হয়নি। একই কথা বলেন আরেক ব্যবসায়ী গণেশ দাস। তিনি বললেন, সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা থমকে রয়েছে। মোয়ার সিজন শুরু হতে আর কয়েক দিন। ব্যাপারটি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ