নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হচ্ছে না। সুস্পষ্ট নিম্নচাপ হিসেবে তা বুধবার পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে উত্তর তামিলনাড়ু-দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে চলে এসেছে। এটি বড়োজোর গভীর নিম্নচাপ হতে পারে। নিম্নচাপটি বেশি শক্তিবৃদ্ধি না-করায় এর পরোক্ষ প্রভাবে রাজ্যে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত যে-মাত্রায় বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল, তা হচ্ছে না। মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। উপকূল লাগোয়া দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুরসহ লাগোয়া কয়েকটি জেলার কোনও কোনও স্থানে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এখন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে যে ঘূর্ণাবর্তটি সৃষ্টি হয়েছে আগামীদিনে সেটির গতিপ্রকৃতি কী হয়, আবহাওয়া দপ্তর সেইদিকে বিশেষ নজর রাখছে। আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর আগামী ১৪ দিনের যে দীর্ঘকালীন পূর্বাভাস জানাবে তাতে এই ঘূর্ণাবর্তটির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির ইঙ্গিত মিলবে।
দক্ষিণ-পূর্ব আরবসাগরে যে গভীর নিম্নচাপটি অবস্থান করছে সেটিও শেষপর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় হবে কি না তা অনিশ্চিত। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে এটির ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় উপকূলের আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর মিলিয়ে মাত্র একটি ঘূর্ণিঝড় হয়েছে। অক্টোবর মাসের একেবারে গোড়ায় আরব সাগরে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ তৈরি হলেও সেটি শেষপর্যন্ত উপকূলে আছড়ে না পড়ে সমুদ্রের মধ্যে দুর্বল হয়ে যায়। গতবছর দুই সমুদ্রে তৈরি হওয়া মোট চারটি ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আছড়ে পড়ে। তার মধ্যে বঙ্গোপসাগরের দুটি ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ ও ‘দানা’ প্রভাব ফেলেছিল এরাজ্যে। গতবছর অক্টোবরের চতুর্থ সপ্তাহে দানা উত্তর ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়লেও পশ্চিমবঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি হয়। তার আগেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবছরে বর্ষার আগে ও পরে মিলিয়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড় হয়েছে দুটি সমুদ্রে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস অবশ্য বলেছেন, বছরে একটিও ঘূর্ণিঝড় না-হওয়ার অতীত নজির রয়েছে। তবে এবছরে কোনও ঘূর্ণিঝড় হল না! এমনটা বলার সময় এখনও আসেনি। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে নভেম্বর মাস পর্যন্ত যেকোনও সময়ে।