নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: পবিত্র ফুল। দেশের জাতীয় ফুল। ১০৮ পদ্ম ছাড়া দুর্গার পুজো হয় না। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে ফুটেছে পদ্ম। এবার নতুন সরকারের আমলে প্রথম পুজো। নিউটাউন সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে এবার ফুটবে পদ্মফুল। হুগলির বলাগড়ের নৌকা দিয়ে পদ্মের পাপড়ি তৈরি করা হচ্ছে। থিমের নাম ‘পদ্ম-ভূষণ’। জাতীয় ফুলের নান্দনিক ছোঁয়াতে সাজছে মণ্ডপ। বলা ভালো, গোটা মণ্ডপ এবার পদ্মময়। জাতীয় ফুল পদ্মের পবিত্র রূপে সেজে উঠবে মণ্ডপ। পদ্মের উপর উড়বে মৌমাছি। উপর থেকে ঝরে পড়বে মধু।
স্মার্ট সিটি নিউটাউনের বিভিন্ন আবাসনে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। কিন্তু বিগ বাজেটের কোনো সর্বজনীন পুজো ছিল না। ২০২২ সালে উপনগরীর সিটি স্কোয়ারের মাঠে শুরু হয় নিউটাউন সর্বজনীন দুর্গোৎসবের পথ চলা। কখনও কোমলগান্ধার, কখনও প্রাচীন ভারতের কিছু সময়, কখনও আবার ফুলের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া। অভিনব থিম, নতুন ভাবনায় দর্শনার্থীদের ভিড়কে জনসুনামিতে পরিণত করেছে এই পুজো। এবার তাদের পুজোর পঞ্চম বর্ষ। নৌকা ছাড়াও মণ্ডপ সজ্জায় ব্যবহার করা হচ্ছে নানা ধরণের উপকরণ। রাজ্যে পালাবদলের পর কমিটি বদল না হলেও পুজোর প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারও পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি পুজোর উপদেষ্টা। ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় পুজোর উদ্বোধন হবে।
সারাবছর ধরেই নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে এই পুজো কমিটি। পুজোর আগে অন্যতম উদ্যোগ ‘আনন্দহাট’। যেখানে প্রায় দেড় হাজার শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন পোশাক। এছাড়া দেওয়া হয় গল্পের বই, খাতা, পেনসিল, ইরেজার ইত্যাদি। শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোই লক্ষ্য। নিউটাউন সর্বজনীন দুর্গোৎসবের সম্পাদক সমরেশ দাস ও সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত কর বলেন, কাদার মধ্যে থেকেও পদ্ম তার সৌন্দর্য, পবিত্রতা ও স্বকীয়তা হারায় না। ঠিক তেমনই আমাদের সমাজের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালোবাসা, মানবিকতা, সংস্কৃতি এবং মানুষের পাশে থাকার যে শক্তি, এই ‘পদ্ম-ভূষণ’ তারই প্রতীক। তাঁরা বলেন, আমাদের কাছে পদ্ম মানে শুধু সৌন্দর্য নয়, পদ্ম মানে সম্ভাবনা। পদ্ম মানে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকেও আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়া। তাই পদ্ম আমাদের কাছে এক বৃহত্তর স্বপ্নের প্রতীক। যেখানে সংস্কৃতি আছে, ঐতিহ্য আছে, উৎসব আছে, তার সঙ্গে আছে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাও। -নিজস্ব চিত্র