সুখেন্দু পাল, রায়না: কৃষিনির্ভর এলাকা রায়না। নদের ধারে বিস্তীর্ণ জমিতে কোথাও সবজি, কোথাও ধানের চাষ। দিগন্তজোড়া শুধুই সবুজ। এই সবুজই এলাকার মানুষের রুজিরুটি। সে কথা মাথায় রেখেই বিধানসভা কেন্দ্রের দু’টি ব্লকে কিষান মাণ্ডি বানিয়েছে তৃণমূল সরকার। বিদ্যুতের সমস্যা মেটাতে তৈরি হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার স্টেশন। উচ্চশিক্ষার প্রসারে গোতানে হয়েছে কলেজ। বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, দামোদরের উপর বিকল্প সেতুর। সেই কাজও শুরু হয়েছে।
একদা লালদুর্গ রায়না। বামেদের একটা বড় অংশের ভোট রামে গিয়েছে। একটু একটু করে শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে বিজেপির। কিন্তু স্থানীয়দের কাঙ্খিত দাবি পূরণ করে তৃণমূল এখন শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে। ২০২১ সালের নির্বাচনে তারা ৪৭.৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়। ২০১১ সালে পালা বদলের হাওয়া বইলেও বামেরা ৫১.১২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিল এখানে। পরের নির্বাচনে তারা ৪৫.৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করে। কিন্তু ২০২১ সালের নির্বাচনে বামেদের বড় অংশ গেরুয়া শিবিরের দিকে ঢলে পড়ে। বামেদের ভোট নেমে আসে ১১.০৫ শতাংশে। বিজেপি’র ভোট বেড়ে হয় ৩৯.৫১ শতাংশ। অথচ, ২০১৬ সালের নির্বাচনেও বিজেপির ভোট ছিল সাত শতাংশ। হাইজ্যাক হওয়া সেই ভোট ফেরানো রায়নায় সিপিএমের কাছে এখন প্রেস্টিজ ইস্যু। বাম নেতা-কর্মীরা মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। লালঝাণ্ডা বহনকারী যেসব পরিবার গেরুয়ার দিকে ঢলেছিল, তাদের কাছে টানতে সিপিএম নেতারা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। জ্যোতি বসু কথিত ‘বর্বর দল’ কেন ছেড়েআসা উচিত, সেটাই বোঝাচ্ছেন ভোটারদের। তৃণমূল প্রার্থী মন্দিরা দোলই অবশ্য মমতা সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরছেন। সাড়াও পাচ্ছেন। তা হলেও সমীকরণ বদলের আশায় সিপিএম।
রায়না-২ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি সৈয়দ কলিমুদ্দিন বলছিলেন, ‘দামোদরের উপর শিল্পসেতুর কাজ শেষ হলে এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে যাবে। ব্যবসার উন্নতি হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেতু তৈরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। মানুষ চোখের সামনে সব কিছুই দেখছে। এরপর তারা ঠিক করবে, কাকে ভোট দেওয়া উচিত। এখানকার মানুষ সিপিএমের অত্যাচার দেখেছে। সেই সময় তৃণমূল করা কার্যত অপরাধ ছিল। এখন সেই দিন নেই।’ সিপিএম প্রার্থী সোমনাথ মাঝির ভোট প্রচারে ইস্যু মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হওয়ায় মানুষের কী পরিণতি হয়েছে, সেসব কথা তুলে বিজেপিকে নিশানা করছেন তিনি। বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, ‘তৃণমূলের উন্নয়নের ফানুস ফুটো হয়ে গিয়েছে। ওদের জমানায় যত কাজ হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি দুর্নীতি হয়েছে। এবারের নির্বাচনে তার ফল তৃণমূল পাবে।’ রাজনৈতিক মহল অবশ্য মনে করছে, বামেদের ভোট টানার উপরই ভাগ্য ঝুলে দুই ফুলের।