Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যত রাস্তাঘাট করেছি, বামফ্রন্ট ৩৪ বছরেও পারেনি, দাবি তোরাফের

১০ বছরে যত রাস্তাঘাট করেছি, বামফ্রন্ট ৩৪ বছরেও তা করতে পারেনি। বিজেপির তো এক পয়সারও কাজ নেই কুমারগঞ্জ বিধানসভা জুড়ে। তাই উন্নয়নের নিরিখে মানুষ ফের আমাকেই ভোট দেবে।

যত রাস্তাঘাট করেছি, বামফ্রন্ট ৩৪ বছরেও পারেনি, দাবি তোরাফের
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: ১০ বছরে যত রাস্তাঘাট করেছি, বামফ্রন্ট ৩৪ বছরেও তা করতে পারেনি। বিজেপির তো এক পয়সারও কাজ নেই কুমারগঞ্জ বিধানসভা জুড়ে। তাই উন্নয়নের নিরিখে মানুষ ফের আমাকেই ভোট দেবে। কুমারগঞ্জ বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক এক কথায় এভাবেই নিজের পারফরম্যান্স তুলে ধরলেন। ২০১৬ সাল থেকে কুমারগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হিসেবে রয়েছেন তোরাফ হোসেন মণ্ডল। এবারের ভোটেও তিনি তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কুমারগঞ্জ বিধানসভা তৃণমূলের নিশ্চিত সিট বলে পরিচিত। কিন্তু এসআইআরে ভোটারদের নাম কাটা নিয়ে এবার খানিকটা চিন্তিত বিধায়ক। তবে চিন্তিত হলেও উন্নয়নকেই হাতিয়ার করছেন তিনি। 

Advertisement

গত পাঁচ বছরে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলে তিনি পেয়েছিলেন। ১০০ শতাংশ টাকাই তিনি উন্নয়ন খাতে খরচ করেছেন। ওই টাকায় প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে শ্মশানঘাট, যাত্রী প্রতীক্ষালয় এবং আলোর বন্দোবস্ত করেছেন তিনি। এছাড়াও কুমারগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন জায়গায় হাট বাজার, প্রত্যেকটি পঞ্চায়েতেই রাস্তা, ড্রেন, পানীয় জল সহ নানা কাজ করেছেন। বিধায়ক তহবিলের বাইরেও তিনি বহু কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন। কুমারগঞ্জে প্রথমবার ইন্ট্রিগেটেড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, বহু কালভার্ট এবং সেতু নির্মাণ করেছেন। তিনি উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার বোর্ড অফ ডিরেক্টর ছিলেন। সেই সময়ে কুমারগঞ্জে কয়েকটি বাসের পরিসেবা চালু করেছেন। 
বিধায়ক আরও অনেক কাজের উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে শেষ করতে পারেনি। তাঁর দাবি, নিজের বিধানসভা এলাকার গঙ্গারামপুর ব্লকের প্রাণসাগরে একটি কলেজ স্থাপনের ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছেন। গোপালগঞ্জ এবং কুমারগঞ্জ এলাকায় কর্মতীর্থ এবং অডিটোরিয়াম নির্মাণের ব্যাপারেও সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে। এছাড়াও হিমঘর এবং বড় কয়েকটি সেতু নির্মাণের ব্যাপারেও কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। 
তোরাফ হোসেন বলেন, কুমারগঞ্জে দমকল কেন্দ্র নেই। তাই নতুন করে ক্ষমতায় এলে বাকি কাজগুলি করব। তাছাড়া যত কাজ করেছি ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট এত কাজ করেনি। বিজেপি তো কোনোদিন আসেনি, কাজও করতে পারেনি। তবে প্রার্থীর চিন্তা, এসআইআরে বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। আমার নিজের নামও বিচারাধীন ছিল। বিজেপি এভাবেই ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখেছে। কিন্তু লাভ হবে না। এদিকে ময়দানে বামেরাও নেই। তাই মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা করেই উন্নয়নের নিরিখে ভোট দেবে। 
কুমারগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় ৩৫ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোটার। এই সংখ্যালঘু ভোটারের উপর ভর করেই গত ২০১১ সালের পর থেকে ওই বিধানসভায় তৃণমূল ছাড়া আর অন্য কোনো দল জয়ী হতে পারেনি। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারের দাবি, এলাকায় এত অনুন্নয়ন। বহু রাস্তাঘাট কাঁচা রয়েছে। এখানকার বিধায়ক গত ১০ বছরে কোনো কাজ করেননি। শুধু নিজের দলের উন্নয়নের কাজ করে গিয়েছেন। মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছে। তাই বিজেকেই মানুষ ভোট দেবে। অন্যদিকে, সিপিএম প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক কোনো কাজ করেননি। তৃণমূল ও বিজেপি সবাইকেই দেখেছে মানুষ। এবার মানুষ বামেদের উপরেই আস্থা রাখবে।

সম্পর্কিত সংবাদ