Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

এজেন্টরাজের জন্যই জৌলুস হারাচ্ছে লিগ

য়েন্টে এগিয়ে থাকার সুবাদে বেশ কয়েকটি ম্যাচ আগেই লাল-হলুদ ব্রিগেডের সামনে লিগ জয়ের সুযোগ।

এজেন্টরাজের জন্যই জৌলুস হারাচ্ছে লিগ
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অসীম বিশ্বাস: আমি সেবারই ইস্ট বেঙ্গলে সই করেছি। ২০০৬ সাল হবে। পয়েন্টে এগিয়ে থাকার সুবাদে বেশ কয়েকটি ম্যাচ আগেই লাল-হলুদ ব্রিগেডের সামনে লিগ জয়ের সুযোগ। ইস্টার্ন রেলওয়ের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ম্যাচটা জিতলেই শুরু হবে সেলিব্রেশন। গ্যালারিও সেই প্রস্তুতি সেরে এসেছিল। কিন্তু বিধি বাম। শেষ মুহূর্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলাম আমি। পয়েন্ট খুইয়ে ঝুলে গেল চ্যাম্পিয়নশিপ। সেদিন মাঠ থেকে বেরনো দায় হয়ে গিয়েছিল। কানে বাজে ‘অসীম হটাও, ইস্ট বেঙ্গল বাঁচাও’ স্লোগান।

Advertisement

পরের ম্যাচ ছিল মহমেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে। মাঠে নামার আগে মনে হচ্ছিল হার্ট বোধহয় লাফিয়ে পাঁজরের বাইরে চলে আসবে। কিন্তু সেদিন আমার গোলেই ম্যাচ জিতে শিরোপা ঘরে তোলে মশাল বাহিনী। তিন জোড়া ইলিশ মাঠেই উপহার পেয়েছিলাম। এটাই ময়দান। ভালো খেললে রাজা। মাটিতে পা ফেলতে দেবেন না সমর্থকরা। আর খেলতে না পারলে খেউরের বন্যা। এখনকার ফুটবলারদের জন্য মায়া হয়। ওরা এই রোম্যান্টিসিজমটাই বুঝতে পারল না। জেলার মাঠে প্রায় ফাঁকা গ্যালারিতে খেলে ওরা। এরজন্য ফুটবলারদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। ক্লাবগুলি সময় মতো মাঠ তৈরি করতে পারছে না। আর আইএফএ লিগ শেষ করার তাগিদে বড় দলের খেলা ফেলেছে জেলার মাঠে।
মাঠে দর্শক না যাওয়ার আরও একটা কারণ হল স্থানীয় ফুটবলারের অভাব। এর জন্য রাজ্য ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ভূমিপুত্রের সংখ্যা বাড়িয়েছে। কিন্তু আসল রোগ এতে সারবে না। ভালো মানের স্থানীয় ফুটবলার তুলে আনতে হলে ঘরোয়া লিগে এজেন্ট রাজ বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে আইএফএ’কে। আগে কর্তারা ঘুরে ঘুরে ফুটবলার রিক্রুট করত। সেই দিন এখন অতীত। তাই ক্লাবগুলি এজেন্টের মাধ্যমে প্লেয়ার নিচ্ছে। এতে খাটনিও কম, আবার সময়ও প্রচুর বাঁচে। আর এজেন্টরা প্রাধান্য দিচ্ছে নর্থ-ইস্ট এবং কেরালাইট ফুটবলারদের। কারণ, বলে সদ্য পা ঠেকানো ফুটবলারদের গছিয়ে দিতে পারলে ফুটবলার ও ক্লাব— দু’তরফ থেকে টাকা সহজেই পকেটে ঢুকবে। কিন্তু এই জন্যই ফিকে হচ্ছে কলকাতা লিগের উন্মাদনা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ