Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্টেশন থেকে উদ্ধার করা বৃদ্ধের শেষকৃত্য পুরসভা ও সিভিকের

একমাত্র ছেলে বৃদ্ধ বাবা ও মাকে বারুইপুর স্টেশনে ফেলে রেখে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন।

স্টেশন থেকে উদ্ধার করা বৃদ্ধের শেষকৃত্য পুরসভা ও সিভিকের
  • ২০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: একমাত্র ছেলে বৃদ্ধ বাবা ও মাকে বারুইপুর স্টেশনে ফেলে রেখে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন। মায়ের হাতে ৩০০ টাকা গুঁজে দিয়ে ধর্মতলা থেকে আসছি বলে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু আর ফেরেননি। বৃদ্ধ দম্পতির ঠাঁই হয়েছিল বারুইপুর পুরসভার আশ্রয়হীনদের হোমে। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ৭৫ বছরের বৃদ্ধ গোবিন্দ পুরকাইত। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। এই অবস্থায় কী করবেন ভেবে তাঁর সহধর্মিণী ৬৯ বছরের কমলা পুরকাইত শোকে, আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে পড়েন। শেষে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় বারুইপুর পুরসভা। সহযোগিতা করেন বারুইপুর থানার এক সিভিক ভলান্টিয়ার পুলকেশ নস্কর। পুরসভার কয়েকজন কর্মী ও সেই সিভিক ভলান্টিয়ার বৃদ্ধর দেহ নিয়ে যান বারুইপুরের কীর্তনখোলা মহাশ্মশানে। সেখানেই তাঁদের উদ্যোগে বৃদ্ধ গোবিন্দবাবুর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। কমলাদেবীই স্বামীর মুখাগ্নি করেন। এই কাজের পর বৃদ্ধাকে আবার হোমেও পৌঁছে দেন ওই সিভিক ভলান্টিয়ার। কমলাদেবী বলেন, ছেলে আর ফেরেনি। ফিরবে কি না জানিও না। কিন্তু পুলকেশ আজ আমার সঙ্গে সবসময় থেকে ছেলের দায়িত্ব পালন করল। বারুইপুর পুরসভাকেও ধন্যবাদ।   

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত ১০ আগস্ট বারুইপুর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বৃদ্ধ দম্পতিকে রেখে দিয়ে বেপাত্তা হয়েছিলেন তাঁদের একমাত্র গুণধর ছেলে। বৃদ্ধ গোবিন্দবাবুর হাঁটাচলার শক্তি ছিল না। প্ল্যাটফর্মের প্ল্যাস্টিকে শুয়ে রাত কাটাতে হচ্ছিল তাঁদের। এরপর বারুইপুর জিআরপি তাঁদের উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা করিয়ে বারুইপুর পুরসভার আশ্রয়হীনদের হোমে রেখে দেওয়া হয়। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন গোবিন্দবাবু। তাঁকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয় গোবিন্দবাবুর। এরপরে বারুইপুর থানা ও পুরসভায় খবর দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। থানার সিভিক ভলান্টিয়ার পুলকেশ হাসপাতালে এসে কাগজপত্র নিয়ে যোগাযোগ করেন বারুইপুর পুরসভার সঙ্গে। পুরসভার লোকজন ও পুলকেশ দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যান কীর্তনখোলা শ্মশানে। সোমবার সন্ধ্যায় সেখানেই বৃদ্ধের শেষকৃত্য হয়।
এই প্রসঙ্গে পুলকেশ বলেন, থানার আইসির নির্দেশে আমি সব কাজ করেছি। এটা আমাদের মানবিক কর্তব্য। বৃদ্ধা কমলাদেবীর বাড়ি রামনগর থানার রায়চকের মানখণ্ড গ্রামে। তিনি বলেন, কী করে যে আমার হোমে দিন কাটবে জানি না। একমাত্র ছেলে এমন কাজ করবে, ভাবিনি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ