Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

একবছরেও মেলেনি সেচদপ্তরের সম্মতি হাওড়ায় মিয়াওয়াকি ফরেস্ট তৈরিতে বাধা

কংক্রিটের জঙ্গল ক্রমবর্ধমান হাওড়া শহরে। গোটা জেলাতেই বাড়ছে ঘিঞ্জি জনবসতি।

একবছরেও মেলেনি সেচদপ্তরের সম্মতি হাওড়ায় মিয়াওয়াকি ফরেস্ট তৈরিতে বাধা
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কংক্রিটের জঙ্গল ক্রমবর্ধমান হাওড়া শহরে। গোটা জেলাতেই বাড়ছে ঘিঞ্জি জনবসতি। সেই অনুপাতে হু হু করে কমছে গাছের সংখ্যা। বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণের সদিচ্ছা থাকলেও নিরুপায় জেলা বনদপ্তর। অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে চাওয়া হলেও এখনও নদীর পাড়ে বনসৃজনের অনুমতি দেয়নি সেচদপ্তর। হাওড়া পুরসভার সঙ্গে বৈঠকের পরেও স্রেফ জায়গার অভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়নি মিয়াওয়াকি ফরেস্ট। ফলে জেলাজুড়ে বনসৃজনের কাজ কার্যত বিশ বাঁও জলেই।

Advertisement

হাওড়া বনবিভাগের মোট চারটি রেঞ্জ রয়েছে। হাওড়া আরবান সোশ্যাল ফরেস্টিং রেঞ্জ, হাওড়া রুরাল সোশ্যাল ফরেস্টিং রেঞ্জ, হুগলি সোশ্যাল ফরেস্টিং রেঞ্জ এবং আরামবাগ রেঞ্জ। বনদপ্তর সূত্র জানা গিয়েছে, আরামবাগের ৮৮২ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকা ছাড়া বাকি তিনটি রেঞ্জ সম্পূর্ণভাবে নন ফরেস্টিং এরিয়া। অর্থাৎ এই তিনটি রেঞ্জে বনাঞ্চলের ছিটেফোঁটাও নেই। এর মধ্যে গোটা হাওড়া জেলায় বনসৃজন করার মতো বনদপ্তরের নিজস্ব জমি নেই। জেলায় বেড়ে চলা জনসংখ্যার অনুপাতে গাছের সংখ্যা কত, তার কোনও পরিসংখ্যানও জানা নেই বনদপ্তরের।
এমন পরিস্থিতিতে দূষণ রুখতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জমি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বনদপ্তর। শ্যামপুর ক্যানাল ও মান্দারিয়া খাল বরাবর ২০ হেক্টর ফাঁকা জমিতে গাছ রোপণের জন্য চলতি বছরেই সেচদপ্তরের অনুমতি চেয়েছিল বনদপ্তর। এলাকা পরিদর্শনও করা হয়। অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত এনওসির কাগজ হাতে পায়নি বনদপ্তর। জেলা বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কোনও সরকারি দপ্তরের জমি ব্যবহারের অনুমতি না পেলে আমরা কোনভাবেই গাছ বসাতে পারি না। এদিকে, হাওড়া শহর ও শহরের ১০ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে বনাঞ্চল থাকা ভীষণ প্রয়োজন।
হাওড়া শহরে পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে বনসৃজনের পরিকল্পনা নিয়েছিল বনদপ্তর। এজন্য আগেই ক্লিন গঙ্গা মিশনের অন্তর্গত এনক্যাপ প্রজেক্টে পুরসভা ও বনদপ্তরের মধ্যে বৈঠক হয়। ঠিক হয়েছিল, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় শহর এলাকার মধ্যে একটি ছোট ‘মিয়াওয়াকি ফরেস্ট’ তৈরি করা হবে। সেখানে এক হাজার স্কোয়ার মিটার এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ১৮০০ গাছ বসানো হবে। কিন্তু জায়গার অভাবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। একইসঙ্গে হাওড়া শহরের ১০ কিলোমিটার পরিধির মধ্যেও একটি বাফার ফরেস্ট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শহর ঘেঁষা ডোমজুড়, সাঁকরাইল, বালি-জগাছা ব্লকের কোথাও নাকি পর্যাপ্ত জায়গা মেলেনি।
জেলা বনদপ্তরের ওই আধিকারিক বলেন, শহরে ফাঁকা জমি যে নেই, এমনটা নয়। কিন্তু বিভিন্ন নিয়মের গেরোয় জমি মিলছে না। জমি জট কাটলে প্রতিবছর বনসৃজনের জন্য পাওয়া চারাগাছগুলিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ