Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগে ২১-এ শুরু হওয়া তদন্ত থমকে যায় ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশে

সরকারি জমি বিক্রির তদন্ত থমকে গেছে ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশে। তদন্তে তৃণমূল নেতাদের নাম উঠে এসেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগে ২১-এ শুরু হওয়া তদন্ত থমকে যায় ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশে
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে সরকারি জমি দখল করে বিক্রি মামলার তদন্ত ২০২১ সালে শুরু করেছিল সিআইডি। কিন্তু ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশে সেই তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই সরকারি জমি কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমেছে পুলিশ। কার নির্দেশে সেই সময় গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর চলছে। পাশাপাশি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে এবার তাঁর ঘনিষ্ঠদের ফোনও নজরদারির আওতায় রাখছে পুলিশ ।

Advertisement

এই মামলায় ইতিপূর্বে ধৃত তৃণমূল নেতা সুজয় হাজরাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সরকারি জমি দখলের পর ভুয়ো নথি তৈরি করে বিক্রির চক্রটি তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুরোদমে শুরু হয়। লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করেছেন এক-একজন প্রাক্তন বিধায়ক। তবে এভাবে জমি দখল নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতাদের একাংশ বেশ ক্ষুব্ধ ছিল। তাঁদের সঙ্গে আবার ক্যাম্যাক স্ট্রিটের সম্পর্ক ভালো ছিল না। তাঁদের তরফেই অভিযোগ জমা পড়ে পুলিশের কাছে। তদন্তভার পায় সিআইডি। তারা জানতে পারে, প্রাক্তন বিধায়ক ও পুলিশ প্রশাসনের একাংশের মদতে রমরমিয়ে চলেছে এই কারবার। বিষয়টি অজানা ছিল না পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের তদানীন্তন শীর্ষকর্তাদেরও। তদন্তে উঠে আসে, সরকারি জমি দখল হয়েছে। তারপর বিএলএলআরও অফিস থেকে নথি সংগ্রহ করে সিআইডি দেখে, রেকর্ডও বদল করা হয়েছে। ভুয়ো নথি তৈরি করে সরকারি জমি দখলের মূল মাথা তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা। বেশ কয়েকজনকে সিআইডি জেরাও করে। তখন জানা যায়, তৃণমূলের  নেতা, প্রাক্তন বিধায়করা ছাড়াও পুলিশের একটা অংশ ভালো পরিমাণ টাকা পাচ্ছে। সেই কারণেই তারা নিষ্ক্রিয়। এর মধ্যে সিআইডি তদন্তের বিষয়টি পৌঁছে যায় ক্যামাক স্ট্রিটে। তড়িঘড়ি নির্দেশ আসে তদন্ত বন্ধ করার জন্য। সেইমতো থমকে যায় গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে তৃণমূলের বড়ো মাপের নেতার হাত ছিল বলে এখন জানতে পারছেন জেলা পুলিশের অফিসাররা। তখনই ব্যবস্থা নিলে এভাবে ৫০০ একর সরকারি জমি বেহাত হওয়া আটকানো যেত। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ওই সময়কালে কর্মরতদের মধ্যে কাদের মদত ছিল, তাঁদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে জেলা পুলিশ। 
তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন। তাঁরাই বিভিন্নভাবে তাঁকে পালিয়ে থাকতে সাহায্য করছেন। এঁদের মধ্যে ভিন রাজ্যেরও বেশ কয়েকজন আছেন। তাঁদের চিহ্নিত করে সুমিতের লোকেশন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এদিকে, সুমিত রায় প্রসঙ্গে সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘সুমিত পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে ধরা তো একদিন পড়বেই। আর যেদিন ওঁর কোমরে দড়ি পড়বে, সেদিন সবাই আনন্দ পাবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ