ডাঃ সুভাষ সরকার: পশ্চিমবঙ্গকে ভারতভুক্ত করার সংগ্রামের মর্যাদাকে সম্মানিত করতে আমাদের ৮টি দশক অর্থাৎ ৭৯ বছরের পথ চলা সম্পূর্ণ করতে হল। এই দীর্ঘ সময় যে অতিবাহিত হল, এর বড়ো কারণ, প্রকৃত ইতিহাসকে অদ্যাবধি কোনো ইতিহাসবিদ সার্বজনীন করার সাহস দেখাতে পারলেন না। সেই সার্বজনীন ইতিহাস কেমন?
ব্রিটিশ সরকার ভারত থেকে চলে যাওয়ার আগেই ভারতকে দু’টি ভাগে বিভক্ত করে স্বাধীনতা হস্তান্তর করে। কংগ্রেস, মুসলিম লিগ এবং ব্রিটিশ সরকারের পরিকল্পনায় এই ভারত-বিভাজন নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সেই ব্যবস্থাপনায় পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সমগ্র বাংলা প্রদেশ অন্তর্ভুক্ত হয়। অর্থাৎ ‘পূর্ববঙ্গ’ (মানে, এখনকার বাংলাদেশ) ও বর্তমানের ‘পশ্চিমবঙ্গ’ সম্মিলিতভাবে ছিল প্রদেশ। কল্পনা করুন, সেদিন পাকিস্তানকে বিভাজিত করে পশ্চিমবঙ্গকে ছিনিয়ে ভারতের অন্তর্গত করতে না-পারলে আমরা কোথায় থাকতাম! আমাদের সুখ, শান্তি, ধর্ম ও সংস্কৃতি কি রক্ষা পেত?
এই মহান সংগ্রামের ইতিহাস, কার্যকারণ, কাহিনি জানতে পিছিয়ে যেতে হবে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায়। আমাদের দেশে ব্রিটিশ প্রবেশের পূর্বে এবং পরে ক্রমাগত দেশের মানুষ স্বাধীনতা-রক্ষার এবং স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম প্রতিনিয়ত করে গিয়েছে। সেই সংগ্রামের বাষ্পকে সেফটি ভাল্বের মাধ্যমে নির্গত করার জন্যই প্রাক্তন ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউমের (১৮২৯) নেতৃত্বে কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ঘটে ১৮৮৫ সালে।
ভারতের অনেক যুবক সেদিন স্বাধীনতা সংগ্রামে কংগ্রেসকে অবলম্বন করেছিল। সেদিন কংগ্রেস নেতৃত্ব কতিপয় মুসলিমের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। এর ফলে ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’-র বীজ রোপিত হল। ১৯০৫ সাল থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মিন্টো। মেরি ক্যারোলিন গ্রে ছিলেন ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর উপযুক্ত অর্ধাঙ্গিনী। ইনি ইতিহাসে ‘লেডি মিন্টো’ নামে খ্যাত। ১৯০৬ সালের পয়লা অক্টোবর আগা খানের নেতৃত্বে শিমলা ডেপুটেশন ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই প্রতিনিধি দলটি মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনমণ্ডলী ও জনসংখ্যার অনুপাতে এর থেকে বেশি প্রতিনিধিত্ব দাবি করে। চাকরিতেও মুসলমানদের জন্য পৃথক কোটার দাবি রাখতে ভোলেননি তাঁরা। লেডি মিন্টো সেদিন লর্ড মিন্টোর পাশে বসে সব কথা শুনেছিলেন।
এই লেডি মিন্টো ব্রিটিশ প্রশাসক ছিলেন না, কিন্তু রাজনীতি সচেতন মহিলা ছিলেন। নিয়মিত ডায়েরি এবং জার্নাল লিখতেন। এবার তাঁর ডায়েরি এবং ‘ইন্ডিয়া, মিন্টো অ্যান্ড মরলি ১৯০৫ থেকে ১৯১০’ বই থেকে কিছু তথ্য দেখা যাক—
১) আগা খানের শিমলা ডেপুটেশন প্রসঙ্গে লেডি মিন্টো তাঁর ডাযেরিতে লিখেছিলেন— ‘এটি (মুসলিমদের এই পদক্ষেপ) ৬২ মিলিয়ন (৬.২ কোটি) রাষ্ট্রদ্রোহী বিরোধী দলের (অর্থাৎ তখনকার কংগ্রেস) সঙ্গে যোগ দেওয়া থেকে টেনে হিঁচড়ে পিছিয়ে আনার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।’ লেডি মিন্টো মুসলমানদের এই দাবিকে ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (যার নেতৃত্বে ছিল কংগ্রেস) দমন করতে একটি ‘বিভাজন এবং ভারসাম্য বজায় রাখা’-র কৌশল রূপে দেখেছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন, মুসলমানরা মিন্টোর এহেন সহানুভূতির কারণেই কংগ্রেস থেকে দূরে সরে যাবে।
২) ‘পার্থক্যমূলক বা পৃথক নির্বাচনমণ্ডলী প্রসঙ্গে’ লেডি মিন্টো উল্লেখ করেছেন যে, লর্ড মিন্টো প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দেন, ‘যে কোনো নির্বাচনি ব্যবস্থায় মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হবে।’ লেডি মিন্টো অত্যন্ত কৌশলী। এবং এই কৌশলের বন্ধনে লর্ড মিন্টোকে আবদ্ধ করেছিলেন। ওঁর ডায়েরিতে তিনি এই প্রতিনিধি দলকে ‘অত্যন্ত অনুগত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এবং এই ঘটনাটিকে ‘ভারতীয় ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী ঘটনা’ বলে অভিহিত করেন।
৩) ‘তার রাজনৈতিক প্রভাব’—সৈয়দ রাজা ওয়াসতি-সহ আরও কয়েকজন ঐতিহাসিকের মতে, লেডি মিন্টো তাঁর স্বামীকে মুসলিম প্রতিনিধিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে উৎসাহিত করে ব্রিটিশদের ‘ভাগ করো এবং শাসন করো’ নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করেছিলেন।
শিমলা ডেপুটেশনের জবাবে লর্ড মিন্টোর দেওয়া প্রতিশ্রুতিই পরে ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯০৯’ অর্থাৎ ‘পৃথক নির্বাচনি মণ্ডলী’-র ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
১৯০৬ সালে লর্ড মিন্টোর সান্নিধ্যে মুসলিম স্বার্থরক্ষার আশ্বাসে মুসলিম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দু’-মাসের মধ্যেই ঢাকাতে মিলিত হয়ে মুসলিম লিগ স্থাপন করলেন।
কংগ্রেস দলটি তখন ২১ বছরের তরুণ। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, দেশের স্বার্থে সেদিন এই বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে কোনো সক্রিয়তা দেখা গেল না। অর্থাৎ বিভাজনের বীজকে সেদিনের কংগ্রেস, জাতীয় নেতাদের ‘বড়ো নেতা’ হওয়ার স্বার্থে মুখে প্রায় কুলুপ এঁটেই থাকল।
কংগ্রেসের হিন্দু নেতারা সেই সময় থেকেই মুসলিম নেতাদের সঙ্গে তোষণজনিত বন্ধুত্বে লিপ্ত হলেন, অন্য নেতাকে পরাস্ত করার জন্য। কোনো কংগ্রেস নেতা, তিনি হিন্দুই হোন বা মুসলমান, দৃঢ়তার সঙ্গে ‘ভাগ করো এবং শাসন করো’-র বিরোধিতা করার হিম্মত দেখাতে পারলেন না! ফলশ্রুতি যা হল, ক্রমাগত মুসলিম লিগের শক্তি বৃদ্ধি পেতে লাগল। কারণ পৃথক নির্বাচনমণ্ডলীর ব্যবস্থায় মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাত থেকে বেশি প্রতিনিধি মুসলিম লিগ অর্জন করতে থাকল।
ব্রিটিশ ভারতে নির্বাচন হত। কমসংখ্যক মুসলমান অধিষ্ঠিত নির্দিষ্ট নির্বাচনি ক্ষেত্রে থেকে মুসলমান প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে যেতেন। ফলে মুসলিম লিগ মুসলমান সমাজের সামাজিক উন্নয়নের কাজ থেকে নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হল! অর্থাৎ দাবি হল, মুসলমানের জন্য পৃথক ‘হোমল্যান্ড’। ইতিমধ্যে বেঙ্গল প্রভিন্সের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন শেখ সুরাবর্দি। এরকম স্থিতিতে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ বা ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণা করল মুসলিম লিগ। আর সেটিকে পূর্ণ সমর্থন করলেন প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্দি।
পূর্ব প্ররোচনা মতো ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ নামাজের অনুষ্ঠানের পর কলকাতার রাস্তায় হাজার-হাজার মুসলিম বেরিয়ে পড়ে। নির্বিচারে হিন্দুদের দোকান লুট, অগ্নিসংযোগ, হত্যা, মহিলাদের অপহরণ করে ধর্ষণ ঘটতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী সুরাবর্দি স্বয়ং লালবাজার কন্ট্রোল রুমে বসে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিলেন। ১৬ ও ১৭ আগস্ট একই দৃশ্য সমগ্র কলকাতায় চলতে থাকল। কেউ বলে, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ হাজার। কেউ বলে, ১ লক্ষ। স্বাধীনতার সংগ্রামের দাবিদার কংগ্রেস এরপরেও নির্বাক!
পরিণতি হয়েছিল মারাত্মক। ১০ অক্টোবর, ১৯৪৬, দু’-মাস অতিবাহিত হতে না হতে, হিন্দু অধ্যুষিত নোয়াখালিতে পরিকল্পিতভাবে কোজাগরি লক্ষ্মীপুজোর দিন ঐতিহাসিক নোয়াখালি দাঙ্গা শুরু হল। এর নৃশংসতার ব্যাপ্তি আরও মারাত্মক। মায়ের সামনে মেয়েকে ধর্ষণ, স্তন কেটে ফেলা, মা-মেয়ে উভয়কেই হত্যা করার ঘটনা ঘটতে থাকে। অভিযুক্ত মুসলিম লিগের সমর্থকেরা। মহাত্মা গান্ধী মাসাধিক কাল নোয়াখালিতে উপস্থিত থাকা সত্ত্বে এই দাঙ্গা ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলতে থাকে।
ব্রিটিশ আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল যে, খণ্ডিত ভারতকে স্বাধীনতা হস্তান্তর করবে। নোয়াখালির এই দাঙ্গা চলাকালীন কংগ্রেস ভারত বিভাজনের সিদ্ধান্তের মান্যতা স্বীকার করে নেয়। এই বিভাজনের অর্থ সম্পূর্ণ বেঙ্গল প্রভিন্স অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নির্ণয়। এই ভয়ংকর নির্ণয় বাস্তবায়িত হলে এখন আমরা অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কোথায় থাকতাম! আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের কৃষ্টি ও আচার, আমাদের উপাসনার কী হত ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পূর্বে যে ৮ জন মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছেন, তাঁরা ভাবতে পারছেন তাঁদের কী পরিণতি হত! অথচ তাঁরা এই পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাসটি প্রকাশ্যে আনলেন না তাঁদের রাজনৈতিক স্বার্থে। অর্থাৎ সংখ্যালঘু তোষণের জন্য। একদিকে ভয়ংকর দাঙ্গা আর অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বঙ্গ প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নির্ণয় বাঙালি হিন্দুকে আতঙ্কিত করেছিল। এই কাতর আহ্বান ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হৃদয়কে বিদারিত করেছিল।
১৯৪৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান বিভাজনের পরিকল্পনা এবং মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বঙ্গ প্রদেশের সমস্ত জেলায় ভারতকেশরী শ্যামাপ্রসাদ সভা করতে লাগলেন। লক্ষ্য একটিই। পাকিস্তানকে ভাগ করে হিন্দুপ্রধান জেলাগুলিকে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করা। শ্যামাপ্রসাদ কেবল একা নন, সেদিন আরও অনেকে বাংলার জেলায় জেলায় সভা করেছেন, মানুষকে জাগ্রত করেছেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে খ্যাত সুচেতা কৃপালিনী। তিনি কলকাতার শ্রদ্ধানন্দ পার্কেও সভা করেছেন। সেখানে শরৎচন্দ্র বোসের ‘ইউনাইটেড বেঙ্গল’ ধারণার বিরুদ্ধে মানুষকে বুঝিয়েছেন। মানুষ ততদিনে দেখেছে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ এবং নোয়াখালি দাঙ্গার নৃশংস ছবি। মানুষকে তাই পরিষ্কারভাবে এঁরা বলেছেন, বেঙ্গল প্রভিন্সকে বিভাজন না করলে হিন্দু জনসংখ্যাকে সুরক্ষা দেওয়া যাবে না।
১৯৪৭ সালের মার্চে পৌঁছলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। দৃপ্তকণ্ঠে শ্যামাপ্রসাদ সেদিন মাউন্টব্যাটেনকে বলেছিলেন, ‘আপনি যদি সম্পূর্ণ বাংলাকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করে দেন, তাহলে এক বিরাট গৃহযুদ্ধ হবে। বাংলার হিন্দুরা কোনোমতেই এটা মেনে নেবে না।’ সে-দিনের তারিখ ১১ মে ১৯৪৭। জওহরলাল নেহরুকে চিঠি দিয়েছিলেন তিন দিন পরে, অর্থাৎ ১৪ মে। নেহরু উত্তরে বলেছিলেন: ‘আমি মনে করি না মিলিত দুই বঙ্গকে নিয়ে একটি রাষ্ট্র হতে পারে।’ অর্থাৎ পণ্ডিত নেহরুকেও শ্যামাপ্রসাদ কংগ্রেসের শরৎচন্দ্র বোসের ইউনাইটেড বেঙ্গল ভাবনা থেকে দূরে আনতে সমর্থ হন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কর্মকাণ্ডই লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে প্রভাবিত করে ‘দি থার্ড জুন প্ল্যান ১৯৪৭’-এর পরিকল্পনায়। বঙ্গ প্রদেশের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে কেন্দ্র করে আইনসভার সদস্যদের ভোটদানের ব্যবস্থাও নথিবদ্ধ ছিল।
অবশেষে এল ২০ জুন, ১৯৪৭। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সমস্ত হিন্দুপ্রধান জেলার আইনসভার প্রতিনিধিরা প্রত্যেকে পরিস্থিতি অবগত হয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে এসেছিলেন। নির্বাচন হল তিনটি পর্যায়ে। প্রথমে ছিলেন জয়েন্ট সেশনের প্রতিনিধিগণ। বিষয়: দুই বাংলা একত্র থাকবে কি না এবং সেক্ষেত্রে ভারত বা পাকিস্তান কোথায় যোগ দেবে? দ্বিতীয় পর্যায়ে ছিলেন মুসলিমপ্রধান জেলার প্রতিনিধিগণ। বিষয়: বাংলা বিভাজন হবে কি না এবং তাহলে কি তাঁরা পাকিস্তানে যোগদান করবেন? তৃতীয় পর্যায়ে অমুসলিম বা হিন্দুপ্রধান জেলার প্রতিনিধিগণ। বিষয়: বাংলা বিভক্ত হবে কি না এবং হলে তাঁরা কি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবেন? এই তিনরকমভাবে দুই বাংলার প্রতিনিধিদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থা হয় ‘হিজ মাজেস্টিক গভর্নমেন্ট’ বা ‘দি থার্ড জুন প্ল্যান ১৯৪৭’-এর রুলিং অনুসারে। এই যা কিছু ব্রিটিশ করতে বাধ্য হল। ভারতকেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সামাজিক সংগ্রাম ও রাজনীতিতে কূটনৈতিক লড়াইয়ের সফলতা এল।
হিন্দুপ্রধান জেলার আইনসভার সদস্যদের ভোটের ফলাফল ৫৮-২১ ভোটে নির্ণীত হল। সিদ্ধান্ত হল বাংলা বিভাজিত হবে এবং হিন্দুপ্রধান পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সঙ্গে থাকবে। পশ্চিমবঙ্গের তখনকার বা ভবিষ্যতে ভারতের সংবিধানই তাদের সংবিধান হবে। মুসলিমপ্রধান রাজশাহি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ অর্থাৎ পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দেবে এবং তারা নতুন সংবিধান তৈরি করবে। এই সহজ ও সত্য ইতিহাস প্রকাশ্যে আনতে এরাজ্যের ৮ জন মুখ্যমন্ত্রী কেন অপারগ হলেন– সেই প্রশ্নের উত্তর পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষ জানতে উৎসুক।
লেখক প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, ভারত সরকার (মতামত ব্যক্তিগত)
কৃতজ্ঞতা: অধ্যাপক প্রণব সাহা, ২১ জুন, ১৯৪৭ অমৃতবাজার পত্রিকার জন্য।