নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত এক সপ্তাহে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন ডোমজুড়ের বাঁকড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি শিবপুরের একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। পুজোর সময় থেকেই এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। যদিও স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, ডোমজুড় ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো গিয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, গত সপ্তাহে হাওড়া জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭৪৫। চলতি সপ্তাহে নতুন করে ৪২ জন আক্রান্ত হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭৮৭ হয়েছে। এর মধ্যে হাওড়া পুরসভা এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩২৩। ডোমজুড় ব্লকে চলতি সপ্তাহে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ কাটছে না। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পঞ্চায়েত প্রধান মনিরুল বলেন, ‘পুজোর সময় থেকেই ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। বাঁকড়ায় কোথাও আবর্জনা ফেলার ভ্যাট নেই। গত রবিবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছি। পঞ্চায়েতের তরফে সচেতনতা প্রচার করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোধে নিয়ম না মানলে এবার বাসিন্দাদের জরিমানা করা হবে।’ হাওড়ার সিএমওএইচ কিশলয় দত্ত জানান, মশার বংশবৃদ্ধি রুখতে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবেই ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। এসিএমওএইচ প্রশান্ত চৌধুরীর দাবি, ডোমজুড় ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। জঞ্জাল সাফাই, নিকাশি নালা পরিষ্কার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। স্কুলে গিয়েও ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করা হচ্ছে।
এদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ঘিরে ডোমজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বাঁকড়ার নিউ মণ্ডলপাড়ায় বিজেপির তরফে মশারি বিতরণ ও রাস্তায় ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো হচ্ছে। যদিও সংকটের সময় তৃণমূল বিধায়ক তাপস মাইতিকে দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ বিজেপির। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলাশাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছে তারা। তাপস মাইতির দাবি, এখন রাজনীতি করার সময় নয়। আক্রান্তের খবর পাওয়ার পর তিনি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, বিডিও ও পঞ্চায়েত প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দ্রুত নর্দমা ও আবর্জনা সাফাইয়ের পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারের সমস্ত নির্দেশ কার্যকর করা হবে।



