Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মাতৃবিয়োগের শোক ভুলে অনবদ্য অর্ণব

গত রবিবার মা’কে হারিয়েছেন। চোখের জল এখনও চিকচিক করছে পাঠচক্র গোলরক্ষক অর্ণব দাসের।

মাতৃবিয়োগের শোক ভুলে অনবদ্য অর্ণব
  • ১৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত রবিবার মা’কে হারিয়েছেন। চোখের জল এখনও চিকচিক করছে পাঠচক্র গোলরক্ষক অর্ণব দাসের। তবে যাবতীয় কষ্ট, বেদনাকে দূরে সরিয়ে মঙ্গলবার কলকাতা লিগে ইস্ট বেঙ্গলের বিরুদ্ধে মাঠে নামলেন এই তরুণ দুর্গপ্রহরী। শুধু নামলেনই না, মেলে ধরলেন অনবদ্য পারফরম্যান্স। সংযোজিত সময়ে দলের নিশ্চিত পতন রুখে জয় এনে দেন তিনি। বক্সের মধ্যে থেকে নেওয়া প্রভাত লাকরার শট আটকানোর কয়েক সেকেন্ড পরেই রেফারির শেষ বাঁশি বাজে। ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা ডেভিড দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন অর্ণবকে। তখনও তাঁর চোখ বেয়ে নামছে নোনতা জল। আবেগপ্রবণ বাকি সতীর্থরাও। এরপর ছলছল চোখে ২৩ বছরের অর্ণব বলছিলেন, ‘কয়েক বছর আগে বাবাকে হারিয়েছি। এবার মা’ও চলে গেল। বাড়িতে আমি একা। কিচ্ছু ভালো লাগছে না। মনখারাপ কাটাতেই এই ম্যাচ খেললাম। ইস্ট বেঙ্গলের বিরুদ্ধে জয় মা’কে উৎসর্গ করতে চাই।’ 

Advertisement

নদিয়ার শিমুরালীতে বাড়ি অর্ণবের। বছর চারেক আগে তাঁর বাবা না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। তারপর থেকেই মা অসুস্থ। গত রবিবার জীবনযুদ্ধে হার মেনেছেন তিনি। বড় দাদা বিয়ের পর থেকে আলাদা। তাই বাড়িতে গিয়ে নিজেকেই রান্না করে খেতে হয় অর্ণবকে। ২৩ বছরের যোদ্ধা এই গোলরক্ষক বলছিলেন, ‘ফুটবলকে আঁকড়েই বাঁচতে চাই।’ মঙ্গলবারও ইস্ট বেঙ্গলের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়েই লড়লেন তিনি। ম্যাচে ছয়-সাতটা সেভ করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা ডেভিডও গোলটি অর্ণবের মা’কে উত্সর্গ করেছেন। হিমাচল প্রদেশের স্ট্রাইকার ডেভিড বলছিলেন, ‘অর্ণবের জন্য ম্যাচটা জিততে চেয়েছিলাম।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ