


নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: গত ফেব্রুয়ারি থেকে পরপর তিনবার রেপো রেট কমিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)। তার ফলে ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও ঋণের উপর সুদের ভার ইতিমধ্যেই কমাতে শুরু করেছে। একদিকে সুদের হার কমে যাওয়া, অন্যদিকে দামবৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। এই দুই কারণে চলতি অর্থবর্ষ এবং আগামী অর্থবর্ষে দেশের আবাসন শিল্পের বাজার চাঙ্গা থাকবে। দেশজুড়ে ৭৫টি নামজাদা রিয়েল এস্টেট সংস্থার আবাসনের বাজার বিশ্লেষণ করে এমনটাই দাবি করেছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল। তা গত ফেব্রুয়ারি থেকে পরপর তিনবার রেপো রেট কমিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)। তার ফলে ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও ঋণের উপর সুদের ভার ইতিমধ্যেই কমাতে শুরু করেছে। দের বক্তব্য, এই দুই অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ সালে আবাসনের বিক্রি বাড়বে ১০ থেকে ১২ শতাংশ হারে। পাশাপাশি ফ্ল্যাটের গড়পড়তা দাম বাড়বে ৪ থেকে ৬ শতাংশ হারে।
ক্রিসিল দাবি করেছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে পরপর দু’বছর দেশজুড়ে যত আবাসন তৈরি হয়েছিল, তার চেয়ে ফ্ল্যাটের চাহিদা ছিল অনেক বেশি। পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ থেকে। করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশে যত ফ্ল্যাটের জোগান বাড়তে থাকে, তার চেয়ে চাহিদা কম ছিল। গত অর্থবর্ষেও পরিস্থিতি তেমনই ছিল। ক্রেডিট রেটিং সংস্থাটি দাবি করেছে, চাহিদার তুলনায় ফ্ল্যাটের জোগান বেশি থাকবে চলতি ও আগামী অর্থবর্ষেও। তাদের হিসেব চলতি অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে দেশে আবাসনের চাহিদা থাকবে প্রায় সাড়ে ৩৭ কোটি বর্গ ফুট। জোগান থাকবে প্রায় ৪৫ কোটি বর্গফুট। আগামী অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ সালে যেখানে ফ্ল্যাটের চাহিদা থাকবে প্রায় সাড়ে ৩৯ কোটি বর্গ ফুট, সেখানে জোগান পৌঁছতে পারে সাড়ে ৪৫ কোটি বর্গফুটে।
রিপোর্টটি বলছে, আবাসনের চাহিদা ও জোগানে বড় ভূমিকা নেবে বিলাসবহুল ও দামি ফ্ল্যাট। ২০২০ সালে যেখানে এই ফ্ল্যাটের জোগান ৯ শতাংশ বেড়েছিল, তা ২০২৪ সালে ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। চলতি এবং আগামী বছরে সেই বৃদ্ধির হার ৪০ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্রুত নগরায়ণ এবং মানুষের উপার্জন বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ হিসেবে জানিয়েছে ক্রিসিল।