সায়নদীপ ঘোষ, কলকাতা: ঢাকে কাঠি পড়তে আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। তারপরেই দশভুজার আরাধনায় মেতে উঠবে বাঙালি। শহরজুড়ে থিমের লড়াই। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। যোধপুর পার্ক অঞ্চলের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে দেখা গেল তারই খণ্ডচিত্র।
সায়নদীপ ঘোষ, কলকাতা: ঢাকে কাঠি পড়তে আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। তারপরেই দশভুজার আরাধনায় মেতে উঠবে বাঙালি। শহরজুড়ে থিমের লড়াই। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। যোধপুর পার্ক অঞ্চলের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে দেখা গেল তারই খণ্ডচিত্র।
দ্বারঘট, তিরকাঠি থেকে শুরু করে চাঁদমালা। দেবীর আরাধনায় হরেক রকমের সামগ্ৰী দরকার। ধীরে ধীরে দশকর্মা ভাণ্ডার সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তা সংগ্ৰহ করতে হয়। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব বলে কথা। তাই আয়োজনও বিরাট। তবে সবকিছু জোগাড় করতে গিয়ে মনে হয়, দেবী নিজেই যেন পুজোর আয়োজন করছেন। আমরা শুধু এই কাজে তাঁকে সাহায্য করছি। ঠিক যেন ‘অঞ্জলি’। ৬৭ তম বর্ষে এই ভাবনাকেই ফুটিয়ে তুলছে পল্লিমঙ্গল সমিতি (তালতলা)। ভাবনায় শিল্পী তরুণ ঘোষ। প্রতিমা শিল্পী সনাতন পাল। মণ্ডপে প্রবেশ করলেই পুজোর আয়োজনের বিভিন্ন ছবি চোখে পড়বে। কোথাও দেখা যাবে যে তিরকাঠি, ডাব, দ্বারঘট বসানো রয়েছে। একটু একটু করে পুজোর জিনিস নিয়ে আসা হচ্ছে। সেগুলি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হচ্ছে। দেখলে মনে হতে বাধ্য, দেবী দুর্গার তত্ত্বাবধানে এই কাজ চলছে। মনে পড়ে যাবে সেই বিখ্যাত শ্যামাসংগীত, ‘তোমার কর্ম তুমি কর মা, লোকে বলে করি আমি।’ প্রতিমার দু’পাশে থাকবে হোমকুণ্ড। সেখানে যজ্ঞ হচ্ছে। সঙ্গে থাকবে বেলকাঠ থেকে শুরু করে নানান সামগ্ৰী। আগুনের শিখার মধ্যে দেখা যাবে দেবীকে।
তালতলা থেকে কিছুটা গেলেই চোখে পড়বে কিছু ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম। কোথাও দেখা যাবে যোগনিদ্রায় রয়েছেন বিষ্ণু। কিছু দূরেই ধ্যানমগ্ন গৌতম বুদ্ধ। উপরে পদ্মফুলের পাপড়ির বাহার। দেখলে মনে হবে যেন গুপ্তযুগ। গুপ্ত যুগকে ভারতের ‘স্বর্ণযুগ’ বলে থাকেন বহু ঐতিহাসিক। চন্দ্রগুপ্ত, সমুদ্র গুপ্তের আমলে বারবার সমৃদ্ধ হয়েছে দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি। স্বর্ণমুদ্রা থেকে উদয়গিরি। প্রত্যেকটি সৃষ্টি অবিস্মরণীয়। সঙ্গে দেখা গিয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ধর্মের সহাবস্থান। শিল্পকর্মে তার ছাপ স্পষ্ট। ৭৫ তম বর্ষে সেই গুপ্তধনকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে যোধপুর পার্ক সর্বজনীন। এবছর তাদের থিম ‘গুপ্তায়ন’। মণ্ডপের ভিতরে ফাইবার দিয়ে গুপ্ত যুগের বিভিন্ন কালজয়ী সৃষ্টিকে তুলে ধরেছেন শিল্পী বিমান সাহা। সবকিছুর মাঝে থাকবেন দেবী মহামায়া। তিনি সন্তানদের সঙ্গে এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ ঘুরে দেখবেন। সবমিলিয়ে ইতিহাসের এই শ্রেষ্ঠ সময়কে চোখের সামনে দেখতে পাবেন দর্শকরা।
দৃষ্টিহীন মানুষের কাছে স্পর্শটাই সবকিছু। এই বিশেষ অনুভূতির সাহায্যে গোটা বিশ্বের ছবি দেখতে পান তাঁরা। দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রেও এর অন্যথা হয় না। ৭৭ তম বর্ষে এই ভাবনা ফুটিয়ে তুলছে ৯৫ পল্লি। সৃজনে শিল্পী পরিমল পাল। মণ্ডপের ভিতরে ঢুকতেই শোনা গেল কাঠের কাজের শব্দ। একমনে কাজ করে চলেছেন শিল্পীরা। কাঠের উপর হরেক রকমের রঙিন কাপড় বসানো হচ্ছে। এক সহযোগী শিল্পীর কথায়, ‘কাঠ, অপটিক ফাইবার সহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে সেজে উঠছে মণ্ডপ। এই প্রথমবার কোনো পুজো মণ্ডপ ছুঁয়ে দেখতে পারবেন দৃষ্টিহীনরা। তাঁদের নিয়ে আসা হবে। বাকিদের মতো তাঁরাও রাত জেগে পুজো উপভোগ করবেন।’