Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তেলেঙ্গাবাগানে গাড়ি বারান্দার ইতিহাস, করবাগানের আকর্ষণ ভবানী পাঠক

বিলাসিতায় আপস করতেন না সেকালের বাবুরা। মাটিতে পা ফেলতেও বড়ো অস্বস্তি তাঁদের। তাই পালকি সোজা ঢুকে যেত বাড়ির অন্দরমহলে।

তেলেঙ্গাবাগানে গাড়ি বারান্দার ইতিহাস, করবাগানের আকর্ষণ ভবানী পাঠক
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভদীপ রায়, কলকাতা: বিলাসিতায় আপস করতেন না সেকালের বাবুরা। মাটিতে পা ফেলতেও বড়ো অস্বস্তি তাঁদের। তাই পালকি সোজা ঢুকে যেত বাড়ির অন্দরমহলে। বাবু পা ফেলতেন উঠোনে। বাবুয়ানায় তাল কাটল ১৮২৭ সালে পালকি বাহকদের আন্দোলন। সমস্যায় বাবুরা। পালকির জায়গা নিল ঘোড়ার গাড়ি। যাতায়াতের সমস্যা মিটলেও আপসের হাত ধরতে হল ষোলো আনা বাবুয়ানায়। কারণ, ঘোড়ার গাড়ি বাড়ির অন্দরে ঢোকে না। রাস্তার ওপারে থামে। জল-কাদা পেরিয়ে, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাড়িতে ঢোকেন বাবু। এই সমস্যার সমাধান খুঁজলেন নিজেরাই। সদর দরজার সামনে তৈরি হল ছাউনি দেওয়া বারান্দা। গাড়ি এসে থামল তার নীচে। বাবু বাড়ির বাইরেই নামলেন কিন্তু জল-কাদা তাঁকে স্পর্শ করল না। এভাবেই গাড়ি বারান্দার পথ চলা শুরু। কালের নিয়মে গাড়ি বাড়ল, পাল্লা দিয়ে তার বারান্দার বহরও। অভিনব নকশা, কারুকাজে তা হয়ে উঠল কলকাতার বাবুয়ানার অন্যতম পরিচয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই গৌরবও ধূসর হল। ১৮৭০ সালে নতুন করে গাড়ি বারান্দা তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা আনল সরকার। রাস্তা চওড়া করার প্রয়োজনেই বদলে গেল শহরের চেহারা। এল ফুটপাত। ধীরে ধীরে শহরের বুক থেকে হারিয়ে গেল গাড়ি বারান্দা। এবার সেই হারিয়ে যাওয়া কলকাতাকেই মণ্ডপে ফিরিয়ে আনছে তেলেঙ্গাবাগান। ৬১তম বর্ষে তাদের পুজোর ভাবনা, ‘তিলোত্তমার অলিন্দের কথা গাড়ি বারান্দা’। শিল্পী বনগাঁর প্রশান্ত জানালেন, মণ্ডপে তিনটি ভাগ থাকবে। গাড়ি বারান্দার জন্ম থেকে হারিয়ে যাওয়া, সময়ের গল্প ফুটে উঠবে মণ্ডপে। প্রতিমা হবে সনাতনী ধাঁচে। গড়বেন পরিমল পাল। সঙ্গে থাকছে আলো এবং আবহের চমক। অন্যতম কর্মকর্তা অমৃত সাউ জানালেন, প্রশাসনের নির্দেশে সব নিয়ম নেমে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে থাকবে একটি গ্রিনফিল্ডের ভিনটেজ গাড়ি। 

Advertisement

তেলেঙ্গাবাগান থেকে কয়েক পা এগলেই করবাগান। ৭৯তম বর্ষে এই ক্লাবের থিম ‘জয় ভবানী’। সৃজনে সৌরভ সাহা। বাংলার রবিন হুড ভবানী পাঠক একসময় ব্রিটিশ সাহেবদের ত্রাস ছিলেন। ধনীদের লুঠ করে সেই টাকা বিলিয়ে দিতেন গরীবদের মধ্যে। দুর্ধর্ষ যোদ্ধা ভবানী পাঠকের উল্লেখ মেলে বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস দেবী চৌধুরাণীতে। করবাগানের মণ্ডপে ফুটে উঠবে তাঁরই জীবনের কাহিনি, থাকবে ভবানী পাঠকের প্রায় ২০ ফুটের একটি মূর্তি। এটি দর্শকদের নজর কাড়বে বলে আশা শিল্পী সৌরভ সাহার। প্রতিমাও তৈরি হবে সামঞ্জস্য রেখে। এই পুজোর অনতিদূরে কবিরাজ বাগান। মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে কর্ণাটকের ইসকন মন্দিরের আদলে। দায়িত্বে বনগাঁর প্রশান্ত। মণ্ডপের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে এখানেও প্রতিমা হবে সাবেকি ধাঁচের। শিল্পী মিন্টু পাল। ক্লাব সদস্যদের কথায়, এবার কোনো রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না তাদের পুজোয়। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী সমিতি মিলে আয়োজন করা হচ্ছে। উদ্বোধন করবেন ইসকনের মহাজাররাই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ