মোহন বাগান-০ : পাঞ্জাব-০
(টাই-ব্রেকারে জয় ৪-৩ ব্যবধানে)
মোহন বাগান-০ : পাঞ্জাব-০
(টাই-ব্রেকারে জয় ৪-৩ ব্যবধানে)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টাই-ব্রেকারে মিগুয়েলের শট জালে আছড়ে পড়তেই সবুজ-মেরুনের ‘বিশাল’ উৎসব শুরু। ছাংতেরা দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন বিশ্বস্ত দুর্গপ্রহরীকে। সতীর্থদের ভালোবাসার জোয়ারে আপ্লুত বিশাল কাইথ। তাঁর হাতে ভর করেই যে আরও এক ফাইনালে উঠল মোহন বাগান।
রবিবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে আইএফএ শিল্ডের প্রথম সেমি-ফাইনালে পাঞ্জাব এফসিকে পেনাল্টি শ্যুট-আউটে বশ মানাল পানোস ব্রিগেড। নির্ধারিত সময়ে গোলের দরজা খোলেনি। অতিরিক্ত সময়েও স্কোর ০-০। টাই-ব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট পাকা করল পালতোলা নৌকা বাহিনী। ত্রাতা বিশাল। পাঞ্জাবের জোড়া শট রুখে ম্যাচের নায়ক তিনি। কলকাতায় থাকা জাতীয় কোচ খালিদ জামিল কি ম্যাচটা দেখলেন? দেখে থাকলে নিশ্চয়ই আপশোস করছেন, শনিবারের ব্রাজিল ম্যাচে কেন গুরপ্রীতের পরিবর্তে বিশালকে স্কোয়াডে রাখলেন না!
আইএসএলের আগে শিল্ডেই দল নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা সেরে রাখতে চাইছেন মোহন বাগান কোচ পানোস। তবে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে আশিস রাইয়ের চোট তাঁর চিন্তা বাড়াল। এদিন মিগুয়েলকে বেঞ্চে রেখে মাঝমাঠ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জেলকোভিচকে। আস্থার মান রাখতে ব্যর্থ তিনি। বলের সাপ্লাই না পেয়ে পাঞ্জাব রক্ষণের কানাগলিতে হারিয়ে গেলেন আরউইন। পক্ষান্তরে ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন পাঞ্জাবের তিন বিদেশি মেসি বাউলি, আলফ্রেড ও ওলিভিয়েরা। তবে রাহুল ভেকেদের নাস্তানাবুদ করেও গোলের দেখা পেলেন না তাঁরা।
বিরতির পর লিস্টনের বদলে মিগুয়েল নামলেও খেলার মানের উন্নতি হয়নি মোহন বাগানের। এই পর্বেও খুঁজে পাওয়া গেল না স্কটিশ স্ট্রাইকার আরউইনকে। আসলে সবুজ-মেরুন কোচের দিশাহীন পরিকল্পনা ফুটবলারদের মধ্যেও সংক্রমিত। ফলে মাথা ধরা ফুটবলে ক্রমশ বিরক্তি বাড়ল গ্যালারির। শেষপর্বে মিগুয়েলের ফ্রি-কিক থেকে শুভাশিসের হেড জালে জড়ালেও অফ সাইডের কারণে বাতিল হয়। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই পর্বে আরউইনকে তুলে সুহেল ভাটকে মাঠে নামান কোচ পানোস। তবে কাশ্মীরি স্ট্রাইকার কবেই বা ম্যাচ জিতিয়েছেন! অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় ভাগে মিগুয়েলের জোরাল শট বার উঁচিয়ে বাইরে যায়। শেষ পর্যন্ত বিশালের বিশ্বস্ত হাতেই ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল বাগান কোচের। পাঞ্জাবের সাইজা ও বিশাল যাদবের শট রুখে দলকে ফাইনালের টিকিট এনে দেন কাইথ। পক্ষান্তরে মোহন বাগানের ড্রাজিচ লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলেও শ্যুট-আউটে জাল কাঁপাতে সফল রাহুল ভেকে, শুভাশিস, আলবার্তো ও মিগুয়েল।
মোহন বাগান: বিশাল, আশিস (অভিষেক), রাহুল, আলবার্তো, শুভাশিস, লিস্টন (মিগুয়েল), টাংরি, জেলকোভিচ (সাজি), ড্রাজিচ, ছাংতে (সায়ন) ও আরউইন (সুহেল)।