Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতীতে মহাসমারোহে পালিত হল হলকর্ষণ উৎসব, উদ্বোধন হল গোশালাও

মহাসমারোহে পালিত হল বিশ্বভারতীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হলকর্ষণ উৎসব। বৃক্ষরোপণ উৎসবের পরের দিনই রবিবার শ্রীনিকেতন মেলা প্রাঙ্গণে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।

বিশ্বভারতীতে মহাসমারোহে পালিত হল হলকর্ষণ উৎসব, উদ্বোধন হল গোশালাও
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: মহাসমারোহে পালিত হল বিশ্বভারতীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হলকর্ষণ উৎসব। বৃক্ষরোপণ উৎসবের পরের দিনই রবিবার শ্রীনিকেতন মেলা প্রাঙ্গণে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। সকালে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। মুখ্য অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট কৃষিবিজ্ঞানী শ্যাম নারায়ণ নিগম ও রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। অন্যদিকে, এদিন শান্তিনিকেতনের অ্যান্ড্রুজ পল্লিতে উদ্বোধন হল বিশ্বভারতীর নতুন গোশালা। ক্যাম্পাসে গবাদি পশুর অবাধ বিচরণ রুখতেই এই উদ্যোগ। তত্ত্বাবধানহীন গবাদি পশু দেখা গেলে নিরাপত্তা বিভাগকে জানানো যাবে। পরে সেগুলিকে গোশালায় এনে দেখভাল করা হবে।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামীণ কৃষি ও গোপালনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে শ্রীনিকেতন গড়ে ওঠার পর ১৯২২ সালে এল কে এলমহার্স্ট দায়িত্ব নেন। কৃষক ও কৃষির প্রতি সম্মান জানাতে ১৯২৮ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সীতাযজ্ঞ’ নামে এই উৎসবের সূচনা করেন। সেই সময় গুরুদেব নিজেই হাল পরিচালনা করেছিলেন। পরবর্তীতে এই উৎসবই ‘হলকর্ষণ উৎসব’ নামে পরিচিত হয়। এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ফিরে চল মাটির টানে’ গানের সঙ্গে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা। পরে একাধিক গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। প্রথা মেনে হাল পরিচালনা করেন অতিথিরা ও উপাচার্য। কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল বলেন, আমি অভিভূত। কবিগুরুর প্রতিষ্ঠানে মানুষের সঙ্গে মাটির যে সম্পর্ক, তার পরম্পরা এখনো ধরে রাখা হয়েছে। কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটোবেলায় বাবার হালচাষের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
এদিন বিশ্বভারতীর শ্রীনিকেতনের পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতালে বহির্বিভাগ পরিষেবারও সূচনা হয়। উপাচার্য সহ বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন ও কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল পরিষেবার উদ্বোধন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গোশালায় দুধ উৎপাদনের পাশাপাশি গোবর থেকে জৈব সার ও বিদ্যুৎ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। জৈব পদ্ধতিতে পশুখাদ্য উৎপাদন এবং পড়ুয়াদের ব্যবহারিক পশুপালন শিক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পশুর স্বাস্থ্যপরীক্ষাও করা হবে।
গবাদি পশু ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। মালিককে বৈধ পরিচয়পত্র ও মালিকানার প্রমাণ দিতে হবে। গোশালায় আনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পশু ফেরত নেওয়া যাবে। তার পরে মালিকানা দাবি করলে দিতে হবে দু’হাজার টাকা জরিমানা। ভবিষ্যতে ফের ক্যাম্পাসে পশু ছেড়ে না দেওয়ার জন্য মালিকের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হবে।
উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ বলেন, ১৪টি গোরু নিয়ে এই কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দিনে প্রায় ৫০টি গোরু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ প্রকল্পগুলি কীভাবে এখানে বাস্তবায়ন করা যায়, তাও দেখা হচ্ছে। গোশালাকে শুধু গবাদি পশু রাখার জায়গা হিসেবে নয়, কৃষি, পরিবেশ ও ব্যবহারিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত একটি কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য।  মন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল বলেন, এটা অত্যন্ত অভিনব উদ্যোগ। বিশ্বভারতী এই যে পথ দেখাল, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও তা অনুকরণ করবে বলে আশা করছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ