নয়াদিল্লি: বিজেপির প্রবীণতম নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতিও। অটলবিহারী বাজপেয়ি সরকারে মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী হিসাবে শিক্ষাদপ্তরের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। যদিও ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁর ঠাঁই হয় দলের নবনির্মিত ‘মার্গদর্শক মণ্ডল’-এ। লালকৃষ্ণ আদবানির মতো তাঁকেও দলের সক্রিয় রাজনীতি থেকে কার্যত সন্ন্যাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এহেন মুরলী মনোহর যোশি এক যুগ পর সেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের শিক্ষানীতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিলেন। সাম্প্রতিক প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে প্রবীণ বিজেপি নেতার অভিযোগ, সরকার নিজেই কেলেঙ্কারিতে জড়িত! বর্তমান মোদি সরকারকে আয়না দেখিয়ে বর্ষীয়ান নেতার আরও কটাক্ষ, বাজপেয়িজির সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হত না কেন? ঘটনাচক্রে, নিটের প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে জেন জি আন্দোলনে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে মোদি সরকারকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাবের প্রতিবাদে রাস্তায় নামছে জেন আলফাও। এই অবস্থায় মুরলী মনোহর যোশির মতো বর্ষীয়ান নেতা মুখ খোলায় মোদি সরকারের বিড়ম্বনা বাড়ল বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত।
একটি হিন্দি দৈনিক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন যোশি। মোদি সরকারের শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার দিশা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাখাতে বরাদ্দ হ্রাস, দেশজুড়ে হাজার হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া, শিক্ষাক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান বেসরকারিকরণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেলাগাম দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কেও। কেন্দ্রকে বিঁধে এই প্রবীণ বিজেপি নেতার তোপ, সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই শিক্ষা। শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ কমেই চলেছে। রাখঢাক না করেই যোশির প্রশ্ন, ‘বিকশিত ভারতে তাহলে ‘বিকশিত’ শব্দের অর্থ কী দাঁড়ায়? আপনি স্কুল তৈরি করেছেন। কিন্তু সেখানে কোনো শিক্ষক নেই। পড়ুয়ারা তাহলে কী করবে? আপনি কলেজ গড়ার দাবি করছেন... কিন্তু চাকরি কোথায়?’ এমনকি, শুধু পূর্বতন সরকার বানিয়েছে বলেই শিক্ষানীতি বদলের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
প্রশ্নপত্র ফাঁসকেও যোশি শুধুমাত্র পরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা বলে দাগিয়ে দিতে নারাজ। বরং তাঁর মতে, মানুষ যখন দেখে অর্থ ও দুর্নীতি সর্বক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করছে, তখন তারাও ভুল পথ অবলম্বন করতে শুরু করে। এর দায়ভার চূড়ান্তভাবে সরকার ও ব্যবস্থার উপরই বর্তায়। যখন একজন পড়ুয়া দেখে তার শিক্ষক ঘুষের মাধ্যমে পদটি পেয়েছেন, তখন সে ভাবতেই পারে, আমিও কেন একই পদ্ধতিতে সফল হতে পারব না? যখন মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি বিচার বিভাগের সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে, তখন এটাকেই সঠিক পথ বলে কেউ ভাবতেই পারে। আপনি নিজেই এই পথ তৈরি করেছেন, আর এখন জানতে চাইছেন কেন এমনটা হচ্ছে? সুতরাং, দোষটা এই অল্প বয়সিদের নয়। দোষটা আমাদেরই।’ বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা মনে করেন, পড়াশোনার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগসূত্র তৈরি হওয়া আবশ্যিক। যদি আর্থিক সুফলই না মেলে তাহলে শিক্ষার মূল্য কোথায়? নতুন নতুন কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে, কিন্তু স্নাতক হওয়ার পর তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনাই করা হচ্ছে না। একমাত্র সরকারি চাকরি ছাড়া আজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার মতো আর কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই।