Bartaman Logo
৩০ আগস্ট, ২০২৬

প্রেমে বিচ্ছেদ, কর্মীর মন খারাপ? ৭ দিনের সবেতন ‘ব্রেকআপ লিভ’ বেঙ্গালুরুর সংস্থার

খেতে ইচ্ছে নেই। ঘুম উড়ে গিয়েছে। বন্ধুদের ভোকাল টনিকও কাজে আসছে না। কি-বোর্ডে হিজিবিজি টাইপ হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে যেন সব শূন্য মনে হচ্ছে।

প্রেমে বিচ্ছেদ, কর্মীর মন খারাপ? ৭ দিনের সবেতন ‘ব্রেকআপ লিভ’ বেঙ্গালুরুর সংস্থার
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বেঙ্গালুরু: খেতে ইচ্ছে নেই। ঘুম উড়ে গিয়েছে। বন্ধুদের ভোকাল টনিকও কাজে আসছে না। কি-বোর্ডে হিজিবিজি টাইপ হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে যেন সব শূন্য মনে হচ্ছে। আসলে শুধু প্রেম ভাঙেনি, মনটাই তো ভেঙেছে। আর ভাঙা মন নিয়ে অফিসের কাজ সামলানো কী চাট্টিখানি কথা! বসের টার্গেট, ক্লায়েন্ট মিটিং, অ্যাসাইনমেন্ট আরও কত কাজ মাথার উপর। এই মানসিক অবস্থায় কি সেসব করা যায়? বিচ্ছেদ যন্ত্রণা ভোলাতে তাই ব্যর্থ প্রেমিক থুড়ি কর্মীর পাশে দাঁড়াচ্ছে খোদ অফিস। প্রেম ভাঙলে বা বিবাহবিচ্ছেদ হলেই মিলবে সাতদিনের সবেতন ছুটি। হ্যাঁ, ‘সিক লিভ’, ‘ক্যাজুয়াল লিভে’র মতো এবার চালু হয়েছে ‘ব্রেকআপ লিভ’। সৌজন্যে বেঙ্গালুরুর একটি ফিনটেক সংস্থা ‘স্টকগ্রো’।

Advertisement

ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় এই ছুটির সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে। অনেক চিন্তাভাবনা করেই এমনই এক ছুটির কথা ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি। সম্প্রতি সেই ছুটি নিয়ে চর্চায় সরগরম নেটদুনিয়া। সংস্থাটির তরফে জানানো হয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদ বা প্রেমে ছ্যাঁকা খেলেই সাতদিনের ছুটি পাওয়া যাবে। এই ছুটির জন্য কোনো টাকাও কাটা যাবে না। কর্মীরা যাতে সময় নিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে অফিসে আসতে পারেন, মন দিয়ে নিজের কাজ করতে পারেন—সেটাই মূল লক্ষ্য। আর এই ছুটি নেওয়ার সময় তাঁদের কোনো প্রশ্ন বা ‘জেরা’র মুখেও পড়তে হবে না। কোনো প্রামাণ্য নথি জমা দিতে হবে না। শরীর খারাপ হলে প্রেসক্রিপশন জমা দেওয়া যায়। মনখারাপে অবশ্য কী আর করার! 
কিন্তু কোনো কর্মী যদি মনে করেন আরও কটা দিন সময় পেলে ভালো হত! তাঁদের জন্যও বিশেষ ছাড় রয়েছে। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে মন খুলে আলোচনা করতে পারেন তাঁরা। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অজয় লাখোটিয়ার কথায়, ‘কর্মীরা আমাদের পরিবারের মতো। তাঁদের কঠিন সময়ে পাশে থাকতে চায় সংস্থা। সেকথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ। বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই এই নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। তাই কোনো প্রমাণ দেখা হবে না।’
বিষয়টি সামনে আসতেই রীতিমতো সাড়া পড়ে গিয়েছে। সংস্থার প্রশংসায় পঞ্চমুখ নতুন প্রজন্ম। কলকাতার এক আইটি সংস্থার কর্মী নির্ণয়ের কথায়, ‘আমাদের দেশের অফিসগুলিতে এমন ছুটির চল নেই। শরীর খারাপ, পারিবারিক সমস্যা, কারও মৃত্যু, ভ্রমণ সহ নানা কারণ দেখিয়ে ছুটি নেওয়া যায়। ব্রেকআপকে আলাদা করে কেই বা গুরুত্ব দেয়। দক্ষিণ ভারতের ওই সংস্থাকে সাধুবাদ জানাই।’ নির্ণয়ের অফিসের এক প্রবীণ সদস্য অবশ্য খবরটা শুনে থমকে গিয়েছেন। চশমার উপর থেকে তাঁর ব্যঙ্গোক্তি — ‘কী বলছেন মশাই! মনখারাপেও ছুটি? যত্ত সব ফাঁকিবাজি!’ তর্ক জারি থাক। তবে মুভ-অনের জন্য এভাবে সাতদিন বরাদ্দ নিঃসন্দেহে অভিনব। ব‌্যর্থ প্রেমিকরা ঘুরতে যাবেন, চোখের জলে বালিশ ভেজাবেন নাকি ... থাক, বাকিটা ব্যক্তিগত!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ