Bartaman Logo
৩০ আগস্ট, ২০২৬

‘আমাকে সরালে হাত কেটে নেব’, বিজেপির অভ্যন্তরীণ চক্রান্তে হুমকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদল আসন্ন। তা নিয়ে দিন দিন আলোচনা ও জল্পনা জোরালো হচ্ছে। সেই পর্বেই এবার রীতিমতো বোমা ফাটালেন কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী জুয়েল ওরাম।

‘আমাকে সরালে হাত কেটে নেব’, বিজেপির অভ্যন্তরীণ চক্রান্তে হুমকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভুবনেশ্বর: কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদল আসন্ন। তা নিয়ে দিন দিন আলোচনা ও জল্পনা জোরালো হচ্ছে। সেই পর্বেই এবার রীতিমতো বোমা ফাটালেন কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী জুয়েল ওরাম। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘আমার নামে কুৎসা রটিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর চক্রান্ত চলছে দলের অন্দরেই, যাতে নিজেদের জায়গা পাকা করা যায়।’ একথা জানিয়েই ওড়িশার এই প্রবীণ বিজেপি নেতার কড়া হুঁশিয়ারি, ‘যারা আমার ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে, তাদের হাত কেটে নেব।’ ওরামের এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সুর চড়িয়েছে ওড়িশার বিরোধী দলগুলি। তাদের দাবি, বিজেপি নেতাদের নিজেদের মধ্যেই প্রবল লড়াই শুরু হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের দল বিজেডির মুখপাত্র লেনিন মোহান্তির তোপ, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। তিনি বিরক্ত। বিজেপির অভ্যন্তরীণ সংঘাত যে চরমে পৌঁছেছে, মন্ত্রীর মন্তব্যেই তা স্পষ্ট। ওরাম খোলাখুলি আইন-শৃঙ্খলা হাতে তুলে নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। হাত কেটে নেওয়ার মন্তব্য কি যুক্তিযুক্ত?’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভক্তচরণ দাসের অবশ্য সাফ কথা, ‘এটা গান্ধীজির দেশ। ভারতে হিংসার কোনো স্থান নেই।’

Advertisement

‘ই ২০’ ইস্যুতে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রবীণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গাদকারি। একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার নতুনদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সময় হয়েছে।’ মোদি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় কি তাঁর ওই মন্তব্য? জল্পনা তুঙ্গে ওঠায় তড়িঘড়ি সেই সম্ভাবনা বাতিল করে বিজেপি। গাদকারি নিজেও ঢোঁক গেলেন। যদিও তাতে জল্পনা থামেনি। এসবের মধ্যেই ওরাম এবার দলের অভ্যন্তরীণ রেষারেষি নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন। তিনি অবশ্য আঙুল তুলেছেন অন্য দল থেকে জার্সি বদলে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে। ওরাম বলেছেন, ‘কিছু লোক টাকা ছড়াচ্ছে। কুৎসা রটিয়ে আমার ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে। ওরা মনে করছে, আমাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ছেঁটে দেওয়া হলে ওদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে। ওড়িশায় দলের বিস্তারে প্রচুর রক্ত ও ঘাম ঝড়িয়েছি। কেউ আমার ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করলে হাত কেটে নেওয়ার ক্ষমতা আমার রয়েছে।’ দলেরই একটা অংশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তোপ দাগার আগে ওরাম সাক্ষাৎ করেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) মানস মোহান্তির সঙ্গে। তাঁর কাছে অভিযোগ জানানোর পর ওরামের খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ, ‘সাহস থাকলে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করে দেখাক। দেখতে পাবেন, ওদের কী অবস্থা হয়!’ 
ঘটনাচক্রে, ওরামের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রকাশ পাসোয়ান নামে এক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে রাউরকেল্লা পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে সরকারি সার্কিট হাউসে অস্ত্র সহ দুষ্কৃতীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা স্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশকে যুব মোর্চার কার্যকরী কমিটি থেকে সাসপেন্ড করেছে। তারপরই বিজেপির অন্দরের তাঁর বিরুদ্ধে চলা অভিযোগ নিয়ে মুখে খুলেছেন সুন্দরগড় থেকে নির্বাচিত ছ’বারের এই বিজেপি সাংসদ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ