Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুধের উৎপাদন বৃদ্ধিই লক্ষ্য, বকনা বাছুর বিলি হবে হুগলিতে

দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। সঙ্গে চাই স্বনির্ভরতাও।

দুধের উৎপাদন বৃদ্ধিই লক্ষ্য, বকনা বাছুর বিলি হবে হুগলিতে
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। সঙ্গে চাই স্বনির্ভরতাও। সেই লক্ষ্যেই হুগলি জেলাজুড়ে বকনা বাছুর বিলির কর্মসূচি নিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। এই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় তিন কোটি টাকা দিয়েছে দপ্তর। সূত্রের খবর, জেলার প্রতিটি ব্লকে বাছুর বিলি করা হবে। পাশাপাশি, জেলার দুগ্ধ সমবায়গুলির জন্যও আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গো-সম্পদকে রক্ষার পরিকল্পনাও রাজ্য সরকার নিয়েছে। তাই বকনা বাছুরগুলির বিমা করে দেওয়া হবে। এক অর্থে সম্পূর্ণ কোমর বেঁধে গো-সম্পদ ও গো-জাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Advertisement

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার ১৮টি ব্লকের প্রতিটিতে অন্তত ছ’জন উপভোক্তার হাতে একটি করে বকনা বাছুর দেওয়া হবে। অর্থাৎ ১০৮টি বাছুর বিলি করা হবে। অন্যদিকে, জেলার বাছাই করা দুধ উৎপাদক সংস্থাগুলিকে কিছু বকনা বাছুর দেওয়া হবে। ওই খাতে ৬০টি বাছুর রাখা হয়েছে। প্রতিটি বাছুর কেনা, তার বিমা ও বণ্টন প্রক্রিয়ার জন্য প্রায় ১৮ হাজার টাকা খরচ হবে। সেই হিসেবে জেলাকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
হুগলি জেলা পরিষদের প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, একটি সুসংহত পরিকল্পনা করা হয়েছে। যা একইসঙ্গে গো-সম্পদ বৃদ্ধি যেমন করবে, তেমনই দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে। আবার, ওই গো-সম্পদকে সামনে রেখে আর্থিক পরিকাঠামোও মজবুত হবে। আমরা ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করেছি। দ্রুত বাছাই করা উপভোক্তাদের হাতে বকনা বাছুর তুলে দেওয়া হবে। এক প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এক কর্তা বলেন, বিমা যেমন করা হবে, তেমনই নিয়মিত পরিচর্যার দিকটিও আমরা দেখব। বলা যায়, বাছুরগুলি দপ্তরের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে থাকবে। অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে বাছুরগুলির জন্য সুষম আহার থেকে ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে। তাতে বাছুরগুলির বৃদ্ধি ও সুস্থতা বজায় থাকবে। ফলে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেগুলি প্রজনন সক্ষম হয়ে উঠবে। সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি জেলায় বাংলার কালো ছাগল বা ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট’-এর প্রজনন নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছিল। এবার গো-সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ফলে, প্রাণীপালনের গতিপ্রকৃতিতে আচমকা বাড়তি প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। এনিয়ে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, জেলায় মাছ থেকে গো-সম্পদ— সবক্ষেত্রেই বেশ কিছু ইতিবাচক দিক দেখা গিয়েছে। সেই কারণেই বাড়তি প্রয়াস নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ