নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেশন ডিলারদের কাজকর্মের উপর খাদ্যদপ্তরের নজরদারি তো চলছেই। এবার রেশন ডিস্ট্রিবিউটরদের উপরেও নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। আগস্ট মাস জুড়ে ডিস্ট্রিবিউটরদের উপর বিশেষ পরিদর্শন অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি খাদ্যদপ্তরের পর্যালোচনা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত জেলা ও মহকুমা পর্যায়ের এবং বিধিবদ্ধ রেশনিং এলাকার আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে এই সংক্রান্ত গাইডলাইন। রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে খাদ্যদপ্তর এই উদ্যোগ নিয়েছে।
রাজ্যে রেশন ডিলার প্রায় ২১ হাজার। ডিস্ট্রিবিউটরের সংখ্যা ৪৮৩। ডিলারদের দোকানে চাল-গম সরবরাহ করা হয় ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে। তাঁরা এর জন্য নির্দিষ্ট হারে কমিশন পান। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া কোনো রাজ্যে রেশনে ডিস্ট্রিবিউটর নেই। সেখানে খাদ্যদপ্তর সরাসরি রেশন ডিলারের কাছে খাদ্যশস্য সরবরাহ করে থাকে। এখানে খাদ্যদপ্তর বা এফসিআইয়ের গুদাম থেকে প্রথমে খাদ্যশস্য যায় ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে। তাঁরা গুদামে খাদ্য মজুত করে তারপর ডিলারদের কাছে পাঠান। এক শ্রেণির ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে কিছু অসাধু রাইস মিল ও ফ্লাওয়ার মিলের ‘চক্র’ রয়েছে। এজন্য রেশন ব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টির অভিযোগ আছে। নিম্নমানের খাদ্যশস্য সরবরাহে ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের যোগসাজশ থাকে বলে অভিযোগ। এবার পুরো বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে চাইছে খাদ্যদপ্তর। পাশাপাশি রেশনে সরবরাহ করা খাদ্যের গুণমানের উপর নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার। বাম জমানা থেকে সংশোধিত রেশন এলাকায় গমের বদলে আটা সরবরাহ করা হত। আটার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন থাকায় জুন মাস থেকে গম বণ্টন শুরু করেছে খাদ্যদপ্তর। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা এফসিআই গম সরবরাহ করে। তাদের সঙ্গে বিশেষভাবে যোগাযোগ ও সমন্বয় রেখে গমের গুণমান ভালোভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। এদিকে, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও হুগলি জেলায় বিশেষ করে এই ব্যাপারে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘এফআরকে’ মিশ্রিত পুষ্টিগুণসম্পন্ন চালের গুণগত মান যাতে ঠিকমতো থাকে সেটাও দেখতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি বাঁকুড়া জেলায় এরকম কয়েকটি নিম্নমানের চালের নমুনা চিহ্নিত হয়েছে। তার উল্লেখও করা হয়েছে পর্যালোচনা বৈঠকে। চাল ও গমের বেশি সংখ্যক নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্যদপ্তর।