


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘কলকাতা তো মনেই হচ্ছে না। ঠিক যেন দার্জিলিং! একদম হুবহু সেই পরিবেশ। এই আমেজ তো মেলে পাহাড়ে। কুয়াশা ভরা আকাশ, সঙ্গে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা হাওয়া। কলকাতা বলে তো মনেইহচ্ছে না’— নতুন বছরের প্রথম রবিবার আবহাওয়ার মুখভার। আকাশে মেঘ। সঙ্গে শীতল হাওয়ার স্রোত। ফলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কায় তড়িঘড়ি বাড়ির পথ ধরল জনগণ। পণ্ড হল পিকনিকের আয়োজন। পাহাড়ি ঠান্ডার আমেজে খানিক বেসামালই সবকিছু। দুপুরের পরই ফাঁকা হতে থাকল চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, সায়েন্স সিটি, ইকো পার্ক। সবুজ মাঠে স্যাঁতসেঁতে ভেজা ভাব। তাই গড়ের মাঠ ছাড়লেন পিকনিকে আসা উৎসাহীরা।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য জানাল, মানুষ যা ভাবছে বাস্তবিকই আবহাওয়া সেরকমই। উত্তরভারতে কুয়াশার একটি বলয় তৈরি হয়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে কলকাতায়। হাওয়া অফিস এটাও জানাল, দুপুর বেলা যখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ২৪ ডিগ্রি থাকার কথা তখন এদিন তা ছিল ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৫ ডিগ্রি কম। সঙ্গে কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। বেলা একটু বাড়ার পর রোদ উঁকি দিয়েই গায়েব হয়ে যায়। আর ১২টার পর থেকে কুয়াশা ও মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। সঙ্গে হাওয়ার দাপট উত্তরোত্তর বাড়ে। বিকেলে সূর্য ঢলতেই সেই হাওয়া শরীরে বেঁধে কাঁটার মতো। উল্টোচিত্র দেখা যায় রাতে। তখন শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ১ ডিগ্রি বেশি।
সকাল সাড়ে ১১টা। শীতকালের রবিবারের নিরিখে আলিপুর চিড়িয়াখানার টিকিট কাউন্টারে ভিড় অনেক কম। কথায় আছে, ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে।’ বেলা যত বাড়ল দেখা গেল প্রবাদটি সত্যি। দুপুর একটার মধ্যেই কার্যত ফাঁকা হয়ে গেল আলিপুর পশুশালা। চিড়িয়াখানায় তখন মেরেকেটে হাজার পাঁচেক পর্যটক। কর্তৃপক্ষের কথায়, দুপুর ১২-১টা চিড়িয়াখানার পিক আওয়ার। তবে গায়ে রোদ মাখতে না পেরে হতাশ পর্যটকরা।’ সোনালি মণ্ডল নামে এক গৃহবধূ বলেন, ‘পয়লা জানুয়ারির ভিড় এড়াতে প্রথম রবিবার চিড়িয়াখানায় আসব বলে পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু এত বাজে আবহাওয়ায় কি আর পিকনিক করা যায়। গত অক্টোবরে যখন দার্জিলিং গিয়েছিলাম, তখন এরকম স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ পেয়েছিলাম।’ অন্যদিকে কুয়াশা ঘেরা ময়দানে বেলুনওয়ালা আব্দুল গাজি একা বসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য রবিবার খদ্দেরের বন্যা বয়ে যায়। ময়দান চক্কর কাটতে কাটতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আজ তো লোকই নেই। বাচ্চাদের নিয়ে দুপুরেই বেরিয়ে গিয়েছেন মা-বাবারা। আজ ব্যবসা ভালো হল না।’
এছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় এদিন দুপুরে দেখা গিয়েছে আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহাতে। যাদবপুর, স্ট্র্যান্ড রোড, খিদিরপুর, বেহালা সহ একাধিক জায়গায় স্থানীয়রা সকালেই রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে ফেলেন। এই দৃশ্য সাধারণত শীতকালে রাতের দিকে দেখা যায়।
হাওয়া অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সোমবারও এই কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থা ছিল। তার জেরে সেদিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮.২ ডিগ্রি। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৭ ডিগ্রি কম। এরপর এদিনও আচমকা দুপুরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ ডিগ্রি নেমে যায়। ফলে সকালেই মাথায় টুপি, ডবল সোয়েটার শহরের শরীরে।