যে পথে যান উমা, সে পথেই আসেন শ্যামা...। সোমবার শক্তি আরাধনায় শামিল হবে গোটা বাংলা। বারাসত, নৈহাটিতে উপচে পড়বে উৎসবপ্রিয় বাঙালি। তার ঠিক আগে শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দুই প্রধানের মর্যাদার লড়াই। অতীতেও কালীপুজো এবং দীপাবলির আগে-পরে মুখোমুখি হয়েছে মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গল।
আলভিটো ডি কুনহা: দীর্ঘ ফুটবল কেরিয়ারে একাধিক ডার্বি খেলেছি। তবে ২০০৫ সালের ২৭ নভেম্বর অন্যতম স্মরণীয় দিন। সেবার আইএফএ শিল্ডের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই প্রধান। ৪-১ গোলে জয়ের পর গ্যালারি জুড়ে জ্বলে ওঠে হাজার হাজার রংমশাল। কালীপুজো ও দীপাবলির পরে আতসবাজি সম্ভবত আমাদের জন্যই বাঁচিয়ে রেখেছিলেন সমর্থকরা।
পুজোর সময় কোচ সুভাষ ভৌমিক ফুটবলারদের কয়েকদিন ছুটি দিয়েছিলেন। তবে শিল্ডের আগে দল প্রস্তুতিতে নেমে পড়লেও দেরিতে আমি যোগ দিই। প্রথমদিন অনুশীলনে আসতেই সুভাষদা মাঠে নামতে দেননি। সাফ জানান, আমায় বাদ দিয়েই দল ডার্বি খেলবে। অনুশীলন শেষে দলের সিনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে টিম মিটিং সারছিলেন তিনি। সেখানে গেলে ফের অপমান করে বের করে দেন। রাগে, ক্ষোভে আমি বাড়ির পথ ধরি। ভেবেছিলাম, এই কোচের অধীনে আর খেলব না। পরের দিনও অনুশীলনে একই ছবি। আমি আলাদা করে গা ঘামাই। আর সুভাষদা দল নিয়ে ডার্বির প্রস্তুতি সারেন। গোটা ময়দানে রটে যায়, আমায় বাদ দিয়েই ডার্বিতে মাঠে নামবে ইস্ট বেঙ্গল। অথচ ম্যাচের দিন প্রথম একাদশে আমার নাম দেখে অনেকেই চমকে গিয়েছিলেন। হয়তো মোহন বাগান কোচও। আর সেটাই ছিল সুভাষদার স্ট্র্যাটেজি। ম্যাচে জোড়া গোল ছিল আমার। পাশাপাশি স্কোরশিটে নাম তোলে চন্দন ও মাইক ওকোরো। ম্যাচের পর প্রায় হাওয়ায় ভেসে পৌঁছই ড্রেসিং-রুমে। পাঠক, আসলে কী হয়েছিল জানেন? প্রথমদিন অনুশীলন থেকে বাড়ি ফেরার পরই সুভাষদা আমায় ফোন করেন। বলেছিলেন, গোটা বিষয়টাই তাঁর সাজানো। যাতে প্রতিপক্ষ বুঝতে না পারে।