দীপেন্দু বিশ্বাস: ফুটবল কেরিয়ারে টিএফএ (টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি) আমার আঁতুড়ঘর। সেই ব্যাচে রেনেডি সিং, শঙ্করলাল চক্রবর্তী ছাড়াও অন্যতম সতীর্থ ছিল কল্যাণ চৌবে। পরবর্তীতে ক্লাব ফুটবলেও একই সঙ্গে বহু ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই কল্যাণ চৌবেকে ফেডারেশন সভাপতির চেয়ারে বসতে দেখে প্রত্যাশা দানা বেঁধেছিল। নিজে একজন ফুটবলার হওয়ার সুবাদে মাঠ কিংবা মাঠের বাইরের সমস্যা সম্পর্কে কল্যাণ যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। দেশের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ফেডারেশনের সর্বোচ্চ পদে ও বসায় আমার মতো অনেকেই আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু মোহভঙ্গ হতে বেশি সময় লাগেনি। এগনো দূরের কথা, ওর আমলে ক্রমশ তলিয়েছে ভারতীয় ফুটবল। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, খোদ ফুটবলাররাও আতঙ্কিত। মাঠে বল গড়ানোটাই অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর দায় ফেডারেশনকেই নিতে হবে। তার উপর চোখ রাঙাচ্ছে ফিফা। নির্বাসন আটকাতে না পারলে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও মুখ পুড়বে ভারতের।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার সভাপতি নির্বাচিত হয় কল্যাণ। মাঝের তিন বছরে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। কিন্তু সময় পেয়েও সমস্যা কাটানোর চেষ্টা দেখা যায়নি। এই উদাসীনতা কোনওভাবে মানা যায় না। এফএসডিএলের সঙ্গে ফেডারেশনের চুক্তি শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে। অথচ সময় থাকতে তাদের অসন্তোষ মিটিয়ে নয়া চুক্তির রাস্তা খোঁজা হল না কেন? ক্লাব, ফ্র্যাঞ্চাইজি, কোচ, টিম ম্যানেজমেন্টেকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। ইতিমধ্যেই অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি নোটিশ দিয়ে ফুটবলারদের বেতন বন্ধ করেছে। পেশাদার যুগে বেশিরভাগ প্লেয়ারই চাকরি করেন না। তাঁদের রুটি, রুজিতে টান পড়লে দায় নেবে কে? আসলে ফেডারেশন কর্তাদের জেগে ঘুমানোর মাশুল গুনতে হচ্ছে সবাইকে। ফুটবল মাঠে টিম স্পিরিটই শেষ কথা। তেমনই যে কোনও সংস্থা চালানোর প্রাথমিক শর্তই হচ্ছে একতা। কিন্তু ফেডারেশনের ক্ষেত্রে সবই উল্টো। একটা সময় সাজি প্রভাকরণের সঙ্গে কল্যাণের ভাব ছিল গলায় গলায়। সেই মেকি গাঁটছড়া কাটতে বেশি সময় লাগেনি। সময় গড়ানোর সঙ্গেই নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তেও অপ্রিয় হয়েছে কল্যাণ।
লেখক আন্তর্জাতিক ফুটবলার। মতামত ব্যক্তিগত।