নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দলের আশঙ্কাই সত্যি হল। প্রতিষ্ঠা পেল দলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নই। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কেরলে আর ‘হ্যাটট্রিক’ করতে পারল না সিপিএম তথা এলডিএফ। পরিবর্তে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের কাছে রীতিমতো ধরাশায়ী হতে হল তাদের। ১৪০ আসনের কেরল বিধানসভায় বামেরা পেয়েছে মেরেকেটে ৩৫ আসন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ একশো ছাড়িয়েছে। কেরলে রেকর্ড গড়ে টানা ১০ বছরের বাম শাসনের বিরুদ্ধে জনরোষ এবার এতটাই তীব্র ছিল যে ২১ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৩ জনই পরাস্ত হয়েছেন। এর ফলে সার্বিকভাবেই জাতীয় স্তরে সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সিপিএমের অন্দরে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এবারের নির্বাচনি ফলাফলে কেরলের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের কার্যত রাজনৈতিক বাণপ্রস্থের পথ তৈরি হয়ে গেল। এদিন সকালের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন থাকলেও সোমবার দিনের শেষে আর বাংলার ফল নিয়েও সেভাবে উচ্ছ্বাস বজায় রাখতে পারলেন না সিপিএমের নেতাকর্মীরা। এদিন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াদিল্লির এ কে গোপালন ভবনে দৃশ্যতই হতাশ দেখিয়েছে দলীয় নেতৃত্বকে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এদিন বিকেলে দলের সদর কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। তিনি অবশ্য বাংলা এবং কেরলের ফলাফল নিয়ে বারবার আত্মসমীক্ষার কথা জানিয়েছেন। তবে বাংলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি এসআইআর ইস্যুও চরম নির্ণায়ক হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে সিপিএমের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাও কাজ করেছে বিজেপির পক্ষে। তবে শেষমেশ দলের ফল নিয়ে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে এই ফল কেন হল, তা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। সিপিএমের আগামী পলিটব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য সূচিই হতে চলেছে প্রধানত বাংলা ও কেরলের নির্বাচনি ফলাফল।



