সিডনি: প্রকাশ্যে এল সিডনির বন্ডি সৈকতে হামলার নেপথ্যে থাকা দুই আততায়ীর পরিচয়। সোমবার অস্ট্রেলিয়া পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম সাজিদ আক্রম (৫০) ও নাভিদ আক্রম (২৪)। সম্পর্কে তারা বাবা-ছেলে। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ফলবিক্রেতা সাজিদের। নাভিদ গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরইমাঝে সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১৯৯৮ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় পাকিস্তান থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিল সাজিদ। তারপর থেকে এখানেই পাকাপাকিভাবে থেকে যায়। ঘটনার তদন্তে নেমে নাভিদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের হদিশ মিলেছে। সেখানে একটি সবুজ টি-শার্ট পরে দেখা গিয়েছে তাকে। এটি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জার্সি বলে সূত্রে খবর। তাহলে কি হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট কোনও জঙ্গি সংগঠন রয়েছে? সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
যদিও ছেলে একাজ করতে পারে বলে এখনও মেনে নিতে পারছেন না মা ভেরেনা। মহিলার কথায়, ‘ও খুব ভালো ছেলে। যে কোনও বাবা-মা ওর মতো ছেলে কামনা করবে। আসলে সপ্তাহান্তে মাছ ধরতে গিয়েছিল স্বামী ও ছেলে। রবিবার নাভিদ আমায় ফোন করেছিল। ও বলল, মা আমি সাঁতারে গিয়েছিলাম। স্কুবা ডাইভিং করেছি। এখন খেতে যাচ্ছি। বাইরে খুব গরম। তাই বাড়িতেই থাকব। ও এই কাজ করতে পারে না। ওর কাছে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র নেই। এমনিতেই ও বাড়ি থেকে খুব একটা বেরত না। মদ্যপান বা ধূমপানও করে না। বন্ধুদের সঙ্গে মিশত না। কোনও খারাপ জায়গাতেও যেত না। ও এসব করতে পারে না।’
হামলার সময় আততায়ীরা বাকিদের সরে যেতে বলেছিল। একাধিক ভিডিয়ো সূত্রেও সেই বিষয়টি সামনে এসেছে। এক্ষেত্রে ইহুদিরাই ছিল টার্গেট। এই ঘটনা কোথাও যেন কয়েকমাস আগের পহেলগাঁও হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়। সেখানেও পাকিস্তানের মদতে গুলি চালিয়েছিল জঙ্গিরা। বেছে নেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষকে। তদন্তে আরও একটি তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, আততায়ী সাজিদ আক্রমের কাছে ছয়টি বন্দুক রয়েছে। সব কটির লাইসেন্সও ছিল তার কাছে। সিডনির সৈকতে গুলি চালানোর সময় ছয়টি বন্দুকই ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে ঘোষণা করেছে সেখানকার প্রশাসন।