শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: জন্মের কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যু হয় সদ্যোজাতের। কিন্তু সেই সদ্যোজাতের পরিবারের মোবাইল নম্বরে এল শুভেচ্ছার মেসেজ। এখানেই অবশ্য শেষ নয়। সেই মৃত পুত্র সন্তানের সরকারিভাবে নামকরণও করা হয়েছে। মোবাইলে এই বার্তা পেয়ে তাজ্জব পরিবারের লোকজন সহ স্থানীয়রা। সেই বার্তার শেষে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়মমাফিক পুত্র সন্তানকে ভ্যাক্সিনেশন করাতে।
জানা গিয়েছে, দেগঙ্গার আমুলিয়া পঞ্চায়েতের বরামারি গ্রামের বছর পঁয়ত্রিশের গৃহবধূ কিসমাতারা খাতুন গত ২০ জুন সন্তান প্রসব করেন। সেই সময় তিনি আট মাসের গর্ভবতী ছিলেন। ওইদিন ভোররাতে প্রসব যন্ত্রণা ওঠায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই বাড়িতেই প্রসব করেন তিনি। ওই অবস্থায় মা ও সদ্যোজাতকে নিয়ে বিশ্বনাথপুর গ্রামীণ হাসপাতালে যান পরিবারের লোকজন। সেখানে নিয়ে গেলে সদ্যোজাতকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয় মৃত্যুর শংসাপত্র। এরপর কেটে গিয়েছে দেড় মাস। শুক্রবার কিসমাতারা খাতুনের মোবাইলে ভারত সরকারের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে একটি মেসেজ আসে। শুভেচ্ছার এই মেসেজে দেখা যায়, তাঁদের সন্তানের নামকরণও করা হয়েছে। শিশুর নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাহাবুদ্দিন’। তার নাম পোষান অ্যাপে সফলভাবে তোলা হয়েছে বলেও মেসেজে লেখা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভ্যাক্সিনেশন শুরু করতে বলা হয়েছে। এই বার্তা পেয়ে হতবাক পরিবার।
মেসেজে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে সদ্যোজাতের নাম পাঠানো হয়েছে। এরপর পরিবারের সদ্যস্যরা ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। পরিবারের সদস্য মহম্মদ কুতুবউদ্দিন বলেন, এই সরকারি মেসেজ কীভাবে এল, বুঝতে পারছি না। এমনিতেই পরিবারের মনমেজাজ খারাপ, তার উপর এমন মেসেজ পেয়ে আমরা আরও ভেঙে পড়েছি। আমরা দেগঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করব। এনিয়ে দেগঙ্গার শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিককে (সিডিপিও) একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।