নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মাসের পর মাস বাড়ির দেওয়াল থেকে যে তেল চুঁইয়ে পড়ছে, তার উৎস কোথায়? সেই রহস্য উন্মোচন করতে গত মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল বাড়িটির চারপাশে। তারপর তিন সপ্তাহ মতো তেল চুঁইয়ে পড়া বন্ধ ছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে ফের তৈলাক্ত হয়ে উঠছে গড়িয়ার ফার্তাবাদের মজুমদার পাড়ার সরকারবাড়ির দেওয়ালতে। অথচ, এর উৎস কোথায়, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। এই অবস্থায় পরিবারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে রহস্য উন্মোচনের আবেদন জানাবে তারা। ঘরের একটি দেওয়াল থেকে চুঁইয়ে তেল বেরনোর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন পরিবারের লোকজন। সরকারি ও বেসরকারি একাধিক উদ্যোগের পরও তেলের উৎস নিয়ে রহস্য থেকে যাওয়ায় তাঁদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে রাজপুর সোনারপুর পুরসভা কর্তৃপক্ষ কার্যত ‘ক্লু লেস’। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটছে, তা তারা বুঝে উঠতেই
পারছে না। রাজপুর সোনারপুর পুরসভা, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা এই তেলের উৎস জানতে ওই বাড়ি সরজমিনে খতিয়ে দেখেছে। কী ধরনের তেল, তা বলতে পারলেও সেই তেল কোথা থেকে আসছে, তা কেউ জানাতে পারেননি। বাইরে থেকে কেউ এই পোড়া ভোজ্য তেল ছুড়ে দিচ্ছে বলেও পুরসভা দাবি করেছিল। কিন্তু তা যে কারণ নয়, সিসিটিভি লাগানোর পরও তেল বেরনোয় ঘটনায় সেটাই প্রমাণিত। সিসিটিভি ফুটেজে এমন কিছু ধরা পড়েনি। ফলে আপাতত পুরসভাও এনিয়ে হাল ছেড়ে দিচ্ছে। তাদের সবরকম প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে। নতুন করে তারা এখন কিছু করতে চাইছে না বলেই খবর। গৃহকর্ত্রী শম্পা সরকার বলেন,‘ কী হচ্ছে না হচ্ছে, কিছু বোঝা যাচ্ছে না। সিসিটিভি লাগানোর পর কিছুদিন তেল বেরনো বন্ধ ছিল। এখন আবার আগের মতো দেওয়ালগুলি তৈলাক্ত হয়ে উঠেছে। বাড়ির সামনের যে আসবেস্টসের ছাউনি আছে, সেখানে তেল পড়ে পড়ে ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে। আরও বড় কোনও সংস্থাকে দিয়ে যাতে এর অনুসন্ধান
করানো যায়, তার জন্য জেলাশাসককে চিঠি দেওয়া হবে।’ -নিজস্ব চিত্র