সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ২৪ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এলাকার মানুষের আতঙ্ক কাটছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুরক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা ছাড়াই জনবহুল এলাকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত করে ব্যবসা চলছে। তাঁরা এই ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন। কীভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় সুরক্ষার ব্যবস্থা ছাড়া এই ব্যবসা চলছে, সেই প্রশ্ন তাঁরা তুলেছেন। মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর বলেন, স্থানীয়রা এবিষয়ে অভিযোগ জানালে জনবহুল এলাকা থেকে এই ব্যবসা সরানোর বিষয়ে আমরাও ভাবব।
রামপুরহাট শহরের ৮নম্বর ওয়ার্ডে জাতীয় সড়কের ধারে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ডিস্ট্রিবিউটরশিপ নিয়ে ব্যবসা চলছে। বুধবার সকালে সেখানে আচমকা একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে এক শ্রমিকের পা শরীর থেকে ছিন্ন হয়ে ১০০মিটার দূরে গিয়ে পড়ে। অপর একজনের হাত উড়ে যায়। জখমদের একজন কলকাতায়, অপরজন বর্ধমান মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিস্ফোরণে দু’টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ওই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কয়েকহাত দূরে বাসস্ট্যান্ড। স্কুল ও অফিসটাইমে এই বিস্ফোরণ হলে অনেকে হতাহত হত।
স্থানীয় বাসিন্দা সামসুল মোল্লা বলেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, মোটা লোহার সিলিন্ডার টুকরো টুকরো হয়ে কাগজের মতো উড়ে গিয়েছে। আশপাশে মানুষ থাকলে অনেকে জখম হতেন। এটা ভেবেই শিউরে উঠছি।
২০০মিটার দূরে কৌশিক সরকারের বাড়িতে লোহার পাত উড়ে এসে মেঝেতে গেঁথে গিয়েছে। তিনি বলেন, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই মা উঠানে গাছ থেকে ফুল তুলছিলেন। ভাগ্যিস বিস্ফোরণের সময় মা উঠানে ছিলেন না। পাঁচ কেজি ওজনের লোহার পাত এতখানি দূরে উড়ে এসেছে। ঘটনার কথা মনে পড়লেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সিলিন্ডার লিক করেই এঘটনা ঘটেছে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, নিরাপত্তার জন্য নিয়ন্ত্রিত স্টোরেজ কম্পার্টমেন্ট সহ কার্যকরী গ্যাস ক্যাবিনেট দরকার। গ্যাস লিক শনাক্ত করতে ইনফ্রারেড বা ইলেক্ট্রো-কেমিক্যাল সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করাও প্রয়োজন। স্থানীয়রা জনবহুল এলাকা থেকে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা ফাঁকা জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি তুলেছেন।
ওই ডিস্ট্রিবিউটরের ছেলে দেবজ্যোতি দত্ত বলেন, ব্যবসা সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমরা এখনও চিন্তাভাবনা করিনি। তবে আগামী দিনে ভাবতে হবে। এখন জখমদের সুস্থ করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। পুলিশ জানিয়েছে, এই ব্যবসায় কী কী সুরক্ষার ব্যবস্থা আছে, তা দেখা হচ্ছে। তেমন হলে স্থানীয়দের দাবি মেনে মালিকপক্ষকে ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলা হবে। - নিজস্ব চিত্র