নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাস্তার দু’পাশে আবর্জনার স্তূপ বাড়তে বাড়তে প্রায় পাহাড়সম চেহারা নিয়েছে। সেই ঢিপি দখল করে নিয়েছে রাস্তার একাংশ। কোথাও সেই স্তূপেই ছুড়ে ফেলা হচ্ছে কুকুর-বিড়ালের মৃতদেহ। কোথাও আবার আবর্জনার চাপ কমাতে ধরানো হচ্ছে আগুন। দৃশ্যদূষণ, তীব্র যানজট, জতুগৃহ— প্রতিটি শব্দই প্রযোজ্য হাওড়া শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা আন্দুল রোডের প্রকৃত অবস্থা বোঝানোর জন্য।
১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে দ্বিতীয় হুগলি সেতুকে যুক্ত করেছে আন্দুল রোড। সংকীর্ণ এই রাস্তায় মাত্রাছাড়া যানজটের সমস্যা নিত্যদিনের। যানজটের তীব্রতাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে রাস্তার দু’পাশে গজিয়ে ওঠা একের পর এক অস্থায়ী ভ্যাট। বিশেষ করে হালদারপাড়া এলাকা থেকে মৌড়িগ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে অন্তত দশটি ছোটো ছোটো টিলার মতো ভ্যাট গজিয়ে উঠেছে। এই রাস্তা ধরে জাতীয় সড়কের দিকে যেতে প্রথমেই দুঃসহ ছবি চোখে পড়বে হালদারপাড়া ও পোদরার মধ্যে। রাস্তার ডানদিকে দু’জায়গায় আবর্জনার ঢিপি থেকে রাস্তায় প্রায় মাঝ বরাবর গড়িয়ে আসছে নোংরা। একই অবস্থা বিবেকানন্দ নগরের মুখেও। চুনাভাটির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের উল্টোদিকে যে আবর্জনার স্তূপটি রয়েছে, তার পাশ দিয়ে নাক ঢেকে যাওয়ারও উপক্রম নেই বলে অভিযোগ। আশপাশের এলাকা থেকে নোংরা তো বটেই, সেখানে স্তূপগুলিতে ফেলা হচ্ছে কুকুর-বিড়ালের দেহ। পাঁচপাড়া পেট্রল পাম্পের সামনেও ভয়াবহ আকার নিয়েছে অস্থায়ী ভ্যাটটি। আবর্জনায় চাকা আটকে প্রায়দিনই বাইক, টোটো দুর্ঘটনায় পড়ছে বলে অভিযোগ। মৌড়িগ্রাম ও নিমতলার মাঝেও রাস্তা দখল করেছে আবর্জনা। যে কোনও মুহূর্তে আগুন লেগে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গিয়েছে, গোটা এলাকাটি মূলত তিনটি পঞ্চায়েতের অধীনে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাঁচপাড়া, থানামাকুয়া ও দুইল্যা— এই তিন পঞ্চায়েতের কেউই আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্ব নেয় না। মাসের পর মাস এভাবে আবর্জনা জমতে জমতে বহু জায়গায় কঠিন বর্জ্যে পরিণত হয়েছে। এদিকে, দিনভর জাতীয় সড়ক থেকে আসা বড়ো বড়ো পণ্যবাহী ট্রাক, একাধিক রুটের বাস, ছোটো গাড়ি, টোটো, অটো, বাইকের ভিড়ে আন্দুল রোডে যানজট লেগেই থাকে। সেই যানজটে যেন ঘৃতাহুতি দিয়েছে এই অস্থায়ী ভ্যাটগুলি। পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা থেকে ব্যবসায়ী, প্রত্যেকেই প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় চরম ক্ষুব্ধ। বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, ‘আন্দুল রোড এখন আস্তাকুঁড়ে পরিণত হয়েছে। যে কোনও দিন একটা বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটলে হয়তো প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে। বছরখানেক আগেও এক মহিলা পথচারীর মৃত্যু হয়। নজরদারির অভাবে অনেক সময় রাতে গাড়িতে করে এসে আন্দুল রোডের ধারে নোংরা ফেলে চলে যান অনেকে।’ আবর্জনা পরিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়ককে ফোন করা হলে তিনি উত্তর দেননি। সাঁকরাইলের বিডিও কামারুল মনির বলেন, ‘বিষয়টি নজরে এসেছে। অস্থায়ী ভ্যাটগুলি সরাতে পরিকল্পনা করেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ -নিজস্ব চিত্র